মায়ের জানাজায় অংশ নিতে এসে সন্তানের মৃত্যু কটিয়াদীতে শোকের ছায়া

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের অগ্রেরকোনা গ্রামে মায়ের জানাজায় অংশ নিতে এসে হৃদয়বিদারকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন আবু বাক্কার ছিদ্দিক নামের এক যুবক। বৃহস্পতিবার মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঢাকা থেকে ছুটে এসে মায়ের নিথর দেহ দেখার পরপরই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন, যা পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।
আবু বাক্কার ছিদ্দিক ঢাকায় সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং সপরিবারে সেখানেই বসবাস করতেন। তাঁর মা জুলেখা খাতুন ৬৫ বছর বয়সে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মায়ের মৃত্যুসংবাদ সহ্য করতে পারবেন না—এই আশঙ্কায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে মৃত্যুর কথা না জানিয়ে অসুস্থতার অছিলায় বাড়িতে আসতে বলেছিলেন।
বিকেলে বাড়িতে পৌঁছে মায়ের মরদেহ দেখে আবু বাক্কার ছিদ্দিক মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্বজনরা তাঁকে দ্রুত কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মিঠুন রানা জানান, হাসপাতালে আনার পূর্বেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে, যা পরবর্তীতে ইসিজি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়।
নিহতের স্ত্রী শরিফা আক্তার জানান, তাঁর স্বামী মাকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। স্বামীর আকস্মিক প্রয়াণে দুই সন্তানকে নিয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।
একই রাতে মা জুলেখা খাতুনের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পরদিন শুক্রবার সকাল ১০টায় আবু বাক্কার ছিদ্দিকের জানাজা সম্পন্ন হয়। এরপর স্থানীয় পারিবারিক কবরস্থানে মা ও ছেলেকে পাশাপাশি চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় শোকের মাতম বইছে।