বগুড়ায় নার্সের অবহেলায় আড়াই মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু স্বজনদের অভিযোগ

বগুড়া শহরের কানছগাড়ী এলাকার সৃষ্টি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আড়াই মাস বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গত রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু আব্দুল্লা আল আয়ানের মৃত্যু হয়। নিহত আয়ান সোনাতলা উপজেলার পূর্ব ভেলুরপাড়া এলাকার সিঙ্গাপুরপ্রবাসী আব্দুল আহাদের সন্তান। সময়মতো প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইন না দেওয়ায় এই অকাল মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে শিশুর পরিবার।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঈদের পরদিন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে শিশুটিকে উক্ত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত শনিবার রাত পর্যন্ত শিশুটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি লক্ষ্য করা গিয়েছিল। পরিবারের দাবি, ওই রাতে চিকিৎসক কিছু জরুরি স্যালাইন ও ইনজেকশন দেওয়ার নির্দেশ দিলেও কর্তব্যরত নার্সরা তা অবজ্ঞা করেন। বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও নার্সরা সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন এবং শেষ পর্যন্ত নির্দেশিত ওষুধ প্রয়োগ করা হয়নি। ভোরের আলো ফোটার আগেই নিভে যায় আড়াই মাস বয়সী এই শিশুর জীবনপ্রদীপ।
সন্তান হারানো মা নিশাতের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতালের পরিবেশ। নিথর দেহ বুকে জড়িয়ে তিনি বারবার অভিযোগ করেন, দায়িত্বে অবহেলার কারণেই তাঁর সন্তানকে অকালে পৃথিবী ছাড়তে হয়েছে। এদিকে, শিশুটির মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। এমনকি সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে চলতে এবং বিষয়টি গোপন রাখতে সাংবাদিকদের ওপর প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টাও চালায় হাসপাতালটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার বিষয়ে সৃষ্টি জেনারেল হাসপাতালের সহকারী ম্যানেজার আনোয়ার হোসেন জানান, শিশুটি ডায়রিয়া নিয়ে ভর্তি ছিল এবং সকালে মৃত্যুর বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। তবে ভুল চিকিৎসা বা চিকিৎসায় অবহেলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। হাসপাতালের পক্ষ থেকে এ ধরনের অসংলগ্ন আচরণে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ইব্রাহীম আলী জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে নার্সদের চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে অভিযোগ দাখিল করা হলে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন এস এম নূর-ই-শাদীদ জানিয়েছেন, পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।