মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে দেবরের হাতে ভাবি ও ভাতিজা নিহত

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাঁচামারা ইউনিয়নের কাচারিপাড়া গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আপন ভাবি ও শিশু ভাতিজাকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাত ১০টার দিকে সংঘটিত এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন ৩০ বছর বয়সী আমেনা আক্তার এবং তার দুই বছর বয়সী শিশুপুত্র আসলাম। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন আমেনার স্বামী ও কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম, যিনি বর্তমানে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্যানুযায়ী, ঘাতক ইউসুফ আলী নিহত আমেনার দেবর। বেকার ইউসুফ দীর্ঘদিন ধরে তার বড় ভাই আব্দুস সালামের সহায়তায় জীবনযাপন করছিলেন। ঈদ উপলক্ষে ঢাকা থেকে বাড়িতে ফেরার পর থেকেই দুই ভাইয়ের মধ্যে পারিবারিক কলহ দানা বেঁধে ওঠে। শনিবার রাতে বড় ভাই দোকান থেকে বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় ওত পেতে থাকা ইউসুফ হাতুড়ি দিয়ে প্রথমে তার ভাবি ও শিশুকে পিটিয়ে হত্যা করেন এবং পরে ঘরে ঢোকা মাত্রই ভাই সালামের ওপরও প্রাণঘাতী হামলা চালান।

সালামের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে ঘরের ভেতর দুই জনের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং আহত অবস্থায় সালামকে উদ্ধার করেন। ঘটনার পরপরই ঘাতক ইউসুফ আলী এলাকা থেকে পালিয়ে যাওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিক আটক করা সম্ভব হয়নি। এই নৃশংসতায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতদের মরদেহ মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিবাদকেই এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হিসেবে শনাক্ত করেছে পুলিশ। পলাতক ইউসুফ আলীকে আইনের আওতায় আনতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%