Advertisement

মধুবালার সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার শর্ত নিয়ে মুখ খুললেন কমল আমরোহির পুত্র তাজদার

বলিউডের স্বর্ণযুগের রূপসী তারকা মধুবালাকে নিয়ে রহস্যের যেন শেষ নেই। রুপালি পর্দায় যাঁর সাবলীল অভিনয় আর মুগ্ধকর হাসিতে বুঁদ হয়ে থাকত দর্শক, সেই মানুষটির ব্যক্তিগত জীবনের অলিগলি আজও অনুরাগীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। সম্প্রতি প্রয়াত নির্মাতা ও চিত্রনাট্যকার কামাল আমরোহির ছেলে তাজদার আমরোহির এক বিস্ফোরক দাবি ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। তিনি জানিয়েছেন, মধুবালার সঙ্গে তাঁর বাবার সম্পর্কের বিচ্ছেদের নেপথ্যে ছিল এক কঠিন ও বিতর্কিত শর্ত।

তাজদার আমরোহির বয়ান অনুযায়ী, ১৯৪৯ সালে কালজয়ী সিনেমা ‘মহল’-এর শুটিং চলাকালীন কামাল আমরোহি ও মধুবালার মধ্যে সখ্যতা গড়ে ওঠে। সেই সময় কামাল আমরোহি বিবাহিত ছিলেন এবং সাংসারিক জীবনে সন্তানদের বাবাও ছিলেন। তাজদারের দাবি, মধুবালা চেয়েছিলেন কামাল আমরোহি যেন তাঁর প্রথম স্ত্রী সাইয়েদাকে তালাক দিয়ে তাঁকে বিয়ে করেন। কেবল তাই নয়, স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণপোষণের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতেও প্রস্তুত ছিলেন তৎকালীন প্রভাবশালী অভিনেত্রী মধুবালা।

বিজ্ঞাপন

তাজদার এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, সম্পর্কের টানাপোড়েনের সময় তাঁর বাবা মধুবালাকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি চিত্রনাট্য বা সংলাপ বিক্রি করতে পারেন, কিন্তু নিজের স্ত্রী-সন্তানকে নয়। পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধের প্রশ্নে কামাল আমরোহি কোনো আপস করতে রাজি ছিলেন না। মধুবালার দেয়া অর্থ দিয়ে সংসার ভাঙার প্রস্তাবটি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। মূলত এই ঘটনার পরেই তাঁদের সম্পর্কের ইতি ঘটে।

বলিউডের গসিপ কলামে মধুবালার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানাবিধ চর্চা ছিল চিরকালই। কিংবদন্তি অভিনেতা দিলীপ কুমারের সঙ্গে তাঁর প্রেমকাহিনী সর্বজনবিদিত হলেও, কামাল আমরোহির সঙ্গে তাঁর সংক্ষিপ্ত এই সম্পর্কের অধ্যায়টি নিয়ে খুব একটা চর্চা হয়নি। তাজদারের দাবি অনুযায়ী, তাঁর মা সাইয়েদা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত এই সম্পর্কের কথা জানতেনই না। পরবর্তীতে কমল আমরোহি অভিনেত্রী মীনা কুমারীকে বিয়ে করলেও, প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেননি। ঘটনাবহুল ব্যক্তিজীবনে কামাল আমরোহি পরবর্তী সময়ে তাঁর চিকিৎসককেও বিয়ে করেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, তাজদার আমরোহির এই দাবি সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত বয়ান। মধুবালার পক্ষ থেকে এই ঘটনার কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া বা ঐতিহাসিক কোনো নথিপত্র নেই। ফলে এই চাঞ্চল্যকর বয়ানকে বলিউডের ইতিহাসের ধ্রুব সত্য হিসেবে দেখার অবকাশ নেই বরং রুপালি পর্দার নেপথ্যে থাকা এক অজানিত রহস্যের নতুন সংযোজন হিসেবেই দেখছেন চলচ্চিত্রপ্রেমীরা।

0%
0%
0%
0%