Advertisement

সরকার গঠনের ১৮৫ দিনের মাথায় মন্ত্রিসভায় রদবদল ও চার নতুন মন্ত্রীর শপথ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের ১৮৫ দিন পর প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল ও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। শুক্রবার বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিতিতে নতুন চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী শপথ গ্রহণ করেন। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে নতুন নেতৃত্ব আনা হয়েছে এবং বিদ্যমান কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়েছে।

সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ রদবদলের মধ্যে অন্যতম হলো স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। বিএনপি’র জ্যেষ্ঠ নেতা ড. আবদুল মঈন খানকে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ প্রত্যাশিত ছিল। তৃণমূল পর্যায়ে সেবা প্রদান, অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিশাল বাজেট বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকায় এই মন্ত্রণালয়কে সরকারের অন্যতম শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এতদিন দায়িত্ব পালন করা আফরোজা খানম রিতাকে সরিয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে তাকে উক্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেই বহাল রাখা হয়েছে। সরকার গঠনের সময় থেকেই খাদ্য মন্ত্রণালয়ে পূর্ণ মন্ত্রীর পদটি খালি ছিল।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জটিলতা নিরসনে বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের পর পাহাড়ি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধি নিয়োগের দাবি জোরালো হয়েছিল। এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মচাঞ্চল্য ধরে রাখতে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীরকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় তাকে দীর্ঘসময় দেশের বাইরে থাকতে হবে, যে কারণে এই বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ। জহির উদ্দিন স্বপনকে এই মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে। সরকার গঠনের সময় থেকেই পার্থ’র মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গণমাধ্যমে সংস্কার ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই সমন্বয় করা হয়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে নিয়োগ দেওয়া হলেও তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বর্তমানে এই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন। তবে লিংকনের নিয়োগের প্রতিবাদ জানিয়ে হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন ও নেতারা এর সমালোচনা করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এবারের রদবদলের মাধ্যমে সরকার তাদের অগ্রাধিকার ক্ষেত্রগুলো স্পষ্ট করেছে। অভিজ্ঞ নেতাদের বড় বাজেটের মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান, পররাষ্ট্রনীতিতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির চেষ্টাই মূল লক্ষ্য। তবে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে নতুন নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক সরকারের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

0%
0%
0%
0%