জুলাই আন্দোলনে দৃষ্টিশক্তি হারানো কাপড় ব্যবসায়ী তৌহিদের পরিবারে ঘোর অন্ধকার সরকারি সহায়তার আকুতি

নরসিংদী সদর উপজেলার হাজিপুর এলাকার বাসিন্দা ও সেখেরচরের ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ী তৌহিদ উদ্দিন ভূঁইয়া এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করছেন। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ছাত্র-জনতার বিপ্লব চলাকালীন নরসিংদীর জেলখানা মোড়ে পুলিশের গুলিতে তিনি তার দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি চিরতরে হারিয়েছেন। অভাবের তাড়নায় এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন দিশেহারা এই জুলাই যোদ্ধা ও তার পরিবার।
একসময় সেখেরচর বাবুরহাটে নিজের ছোট কাপড়ের দোকানের আয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার বেশ স্বচ্ছলভাবেই চলত তৌহিদের। তার স্বপ্ন ছিল বড় ছেলে পুলিশ অফিসার, মেয়ে বিচারক এবং ছোট ছেলে ডাক্তার হয়ে সমাজের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করবে। কিন্তু পুলিশের বুলেটের আঘাতে তার সেই রঙিন পৃথিবী এক নিমেষেই অন্ধকারে তলিয়ে গেছে। দৃষ্টিশক্তি হারানোয় বাধ্য হয়ে নিজের দোকানটি অন্যের কাছে হস্তান্তর করতে হয়েছে তাকে।
বর্তমানে জুলাই যোদ্ধার সম্মানী ভাতা এবং দোকান থেকে আসা সামান্য অর্থে পাঁচজনের সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমূল্যের বাজারে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ ও চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে পরিবারটি এখন ঋণের জালে জর্জরিত। তৌহিদের স্ত্রী মুনমুন আক্তার জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি দৃষ্টিহীন হয়ে পড়ায় তারা এখন খাদ্য সংকটের পাশাপাশি সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর হতাশার সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছেন।
নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে তৌহিদ উদ্দিন ভূঁইয়া সরকারের কাছে একটি স্থায়ী কর্মসংস্থানের দাবি জানিয়েছেন। তিনি চান, তার সন্তানেরা যেন উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায় এবং অভাবের কারণে যেন তাদের পড়াশোনা থেমে না যায়। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সান্নিধ্য পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন এই ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী। এ অবস্থায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে এবং তাদের দুঃখ দুর্দশা লাঘবে বিত্তবান ও সরকারি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
