কলম্বিয়ায় উদ্ধারকারী দল পাঠাতে বাধার অভিযোগ মেক্সিকোর অস্বীকার বোগোটার

কলম্বিয়ায় আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকার্য পরিচালনায় মেক্সিকোর বিশেষজ্ঞ দলকে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দেশটির নতুন সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহায়তা গ্রহণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বৈষম্যের যে অভিযোগ উঠেছে, এই ঘটনা তাকে আরও ঘনীভূত করেছে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাম দাবি করেছেন, তার দেশের সামরিক উদ্ধারকারী দল আন্তর্জাতিকভাবে সনদপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও কলম্বিয়া কর্তৃপক্ষ নতুন করে সনদপত্র দাবি করে তাদের প্রবেশাধিকার আটকে দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট শেইনবাম বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানান, তার দেশের সামরিক বাহিনীর উদ্ধারকারী দলটি দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এবং অতীতে ৯৮টি দেশে সফলভাবে কাজ করেছে। তারা কলম্বিয়ায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকলেও শেষ মুহূর্তে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকা পড়েন। তবে এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে কলম্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওমর বুলা দাবি করেছেন, আদর্শিক বা রাজনৈতিক কোনো বিবেচনার ভিত্তিতে নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করেই তারা সহায়তা গ্রহণ করছেন।
কলম্বিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডেভিড সান্তিয়াগো তামায়ো জানিয়েছেন, তারা শুধুমাত্র জাতিসংঘ সমর্থিত সংস্থা ‘ইনসার্যাগ’ কর্তৃক স্বীকৃত উদ্ধারকারী দলগুলোকেই অনুমতি দিচ্ছেন। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, এল সালভাদর, ইকুয়েডর এবং ইসরায়েলের উদ্ধারকারী দলগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কলম্বিয়া সরকার জোর দিয়ে বলেছে, তারা মেক্সিকোর কাছ থেকে ইতিমধ্যে ৫৮.৫ টন খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী গ্রহণ করেছে এবং মানবিক সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।
সোমবার আঘাত হানা ৭.৪ মাত্রার এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ২৭৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আহত হয়েছেন ৩,৮০০ জনেরও বেশি মানুষ এবং এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৩৭৭ জন। বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার তৎপরতায় এখন আশঙ্কার কালো মেঘ জমেছে।
এদিকে, কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেল আরদো দে লা এস্প্রিয়েল্লা জানিয়েছেন, এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ১০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা ঘোষণার পাশাপাশি একটি পুনর্গঠন তহবিল গঠন করছে, যার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হাসপাতাল, স্কুল এবং অবকাঠামোর সংস্কার কাজ পরিচালিত হবে। দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে আন্তর্জাতিক মহলের সহায়তা গ্রহণ ও বিতরণের প্রক্রিয়াটি কলম্বিয়ার নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
