AdvertisementAdvertisement

সতেরো বছর পর ইসরায়েলের সঙ্গে কনস্যুলার সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে ভেনেজুয়েলা

ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বে দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো গত জানুয়ারি মাসে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হাতে অপহৃত হওয়ার পর থেকে কারাকাস ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলোর দিকে ঝুঁকে পড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৭ বছর কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন থাকার পর ইসরায়েলের সঙ্গে কনস্যুলার সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে সম্মত হয়েছে ভেনিজুয়েলা।

ভেনিজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফেলিক্স প্লাসেনসিয়া গঞ্জালেজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সম্প্রতি দেশটিতে আঘাত হানা প্রলয়ঙ্করী জোড়া ভূমিকম্পের পর ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে ইসরায়েলি বিশেষজ্ঞ দলের সহায়তার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুই দেশই এখন তাদের নাগরিকদের কনস্যুলার সেবা প্রদানের জন্য একটি সমন্বয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হয়েছে। ইসরায়েলি সরকারের পক্ষ থেকেও এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করে বলা হয়েছে, এটি দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের সেতুবন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

২০০৯ সালে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজ ইসরায়েলের সঙ্গে সমস্ত কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন। দীর্ঘ সময় মাদুরোর শাসনামলে কারাকাস ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে ইসরায়েলের কট্টর বিরোধী হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলার পাশাপাশি কিউবার মতো দীর্ঘদিনের মিত্রদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কনস্যুলার সম্পর্ক স্থাপনের এই উদ্যোগ পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের প্রাথমিক ধাপ হতে পারে। এদিকে, জুলাই মাসে ভেনিজুয়েলা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। বিশ্বজুড়ে ট্রাম্পের অনুসারী বিভিন্ন দেশের সরকার বর্তমানে ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক মেরামতের প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে দক্ষিণপন্থী সরকারগুলোর উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের এই নতুন সমীকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এরই অংশ হিসেবে চিলি ও হন্ডুরাস ইতিমধ্যে ইসরায়েলে তাদের রাষ্ট্রদূতদের ফিরিয়ে নিয়েছে এবং আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই তেল আবিব থেকে দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলিয়ার্দো দে লা এস্প্রিয়েল্লাও একই পথে হেঁটে গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%