AdvertisementAdvertisement

মুকুল রায়ের মরদেহ হাইজ্যাক করেছিলেন অভিষেক, বিস্ফোরক অভিযোগ শুভ্রাংশুর

প্রয়াত প্রবীণ রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের শেষ যাত্রাকে কেন্দ্র করে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তাঁর পুত্র শুভ্রাংশু রায়। টিভাইন বাংলার সঙ্গে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, তাঁর বাবার মরদেহ কার্যত ‘হাইজ্যাক’ করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুভ্রাংশুর অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আধিপত্য এবং নিরাপত্তার কড়াকড়ির কারণে অনেক শুভানুধ্যায়ীই মুকুল রায়ের শেষকৃত্যে উপস্থিত হতে পারেননি।

শুভ্রাংশু রায়ের বর্ণনায়, মুকুল রায়ের প্রয়াণের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে যাবতীয় দায়িত্ব নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়। তাঁকে হাসপাতালে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে পার্থ ভৌমিক এবং সুজিত বসুর উপস্থিতিতে গোটা বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। শুভ্রাংশু জানান, সেই সময় অর্জুন সিং, সৌমিত্র খাঁ এবং রাজ্যপালসহ অনেকেই যোগাযোগ করেছিলেন, কিন্তু পুলিশি বেষ্টনী ও রাজনৈতিক তৎপরতার কারণে সাধারণ মানুষ ও আত্মীয়দের স্বাভাবিক শ্রদ্ধা নিবেদনের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছিল।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

মুকুল রায়ের দলবদল এবং শেষ জীবনের মানসিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে শুভ্রাংশু বলেন, যে মানুষটি নিজের জীবন দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তাঁকেই পরবর্তীতে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্থা করা হয়েছে। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর বিভিন্ন চাপের মুখে মুকুল রায় তৃণমূলে ফিরতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ তাঁর পুত্রের। শুভ্রাংশুর দাবি, এই ক্রমাগত চাপের কারণেই তাঁর বাবা মৃত্যুর দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন।

তৃণমূল নেত্রী ও রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ এনেছেন মুকুল-পুত্র। শুভ্রাংশুর মতে, অসুস্থ থাকাকালীন মুকুল রায়ের খোঁজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেননি এবং মৃত্যুর পরেও কোনো প্রকার সহানুভূতি প্রদর্শন করেননি। উল্টোদিকে, শুভেন্দু অধিকারী কিংবা শমীক ভট্টাচার্যের মতো নেতারা নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছেন বলে তিনি জানান।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

পরিশেষে, মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতির অভিযোগ তুলে শুভ্রাংশু বলেন, অতীতের বিভিন্ন সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিক স্বার্থে মৃতদেহ নিয়ে মিছিল করার সংস্কৃতি গড়ে তুলেছিলেন। যদিও এই গোটা বিষয়টিকে ঘিরে দীর্ঘ জলঘোলার পর শুভ্রাংশু রায় স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি তাঁর বাবার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নতুন করে কোনো রাজনৈতিক বিতর্কে জড়াতে চান না। উল্লেখ্য, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর মুকুল রায় ও শুভ্রাংশু রায় বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন, যা তৎকালীন রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%