AdvertisementAdvertisement

কিয়েভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শিশুসহ নিহত ৩, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সংকটে ইউক্রেন

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক শিশুসহ অন্তত তিনজনের প্রাণহানি ঘটেছে। আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানিয়েছেন, শনিবার কিয়েভের অদূরে বরিসপিল জেলায় তিনটি পৃথক স্থানে এই হামলা চালানো হয়। এতে আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া রাজধানী কিয়েভের দুটি জেলায় হামলার পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং শক্তিশালী বিস্ফোরণে শহরের অনেক ভবন কেঁপে উঠেছে।

ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ায় রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানো দেশটির জন্য দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাশিয়ার ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি গতিতে এবং খাড়াভাবে লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধেয়ে আসায় তা প্রতিহত করতে হিমশিম খাচ্ছে কিয়েভ। এই পরিস্থিতি ইউক্রেনের শহরগুলোর সুরক্ষা নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। কিয়েভ কর্তৃপক্ষ বারবার সতর্ক করে জানিয়েছে যে, শহরগুলোকে রক্ষা করার মতো পর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা ইন্টারসেপ্টর তাদের কাছে নেই।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, চলতি বছরের প্রথমার্ধে ইউক্রেন যে পরিমাণ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র পেয়েছে, তা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। তিনি এই ঘাটতির জন্য বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইন্টারসেপ্টরের সরবরাহ কমে যাওয়াকে দায়ী করেছেন। ইউক্রেনীয় উপদেষ্টাদের তথ্যমতে, রাশিয়া বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ১০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে সক্ষম এবং শীত মৌসুম শুরুর আগেই মস্কো এই হামলার তীব্রতা আরও বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

যুদ্ধের ময়দানে উত্তাপের মধ্যেই ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরেও পাল্টা আঘাত অব্যাহত রেখেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার দুটি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে এবং ইকাতেরিনবুর্গ শহরে অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘ওয়াইল্ডবেরিজ’-এর গুদামে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা পরিচালনা করেছে। একই সময়ে রাশিয়ান-অধিকৃত ক্রিমিয়াতেও ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দুজন নিহত হয়েছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এরই মধ্যে মার্কিন সিনেটে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি লক্ষ্য করে একটি কঠোর নিষেধাজ্ঞা বিল পাস হয়েছে। ৮৬-১১ ভোটে পাস হওয়া এই বিলে রুশ তেল ও গ্যাস ক্রয়কারী দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে নামকরণ করা এই বিলটি কার্যকর হতে হলে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে অনুমোদন ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর প্রয়োজন। এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লেইন বলেছেন, এটি রাশিয়ার যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা সীমিত করতে সহায়তা করবে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%