রাজনীতির চোরাবালিতে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের বিদায়ঘণ্টা কি বেজেই গেল

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শেষটা ঘরের মাঠে করার যে স্বপ্ন সাকিব আল হাসান দেখেছিলেন, তা কি তবে রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষের কাছে বলিদান হলো? সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ এবং দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার যে এক প্রকার শেষ, তা এখন ক্রীড়াঙ্গনের সবার কাছেই প্রায় স্পষ্ট। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সাকিবের উপস্থিতি যেন সেই জল্পনাকেই চূড়ান্ত রূপ দিল।
সাবেক এই অধিনায়কের এই রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার বাসভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে, যা দেশে ফিরলে তার সম্ভাব্য পরিস্থিতির একটি পরিষ্কার বার্তা দেয়। ক্রিকেটপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিদায়ী সংবর্ধনা পাওয়ার।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) ক্রিকবাজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আমিনুল হক বলেন, ‘তার (সাকিবের) দেশে ফিরে জাতীয় দলের হয়ে খেলার কোনো সুযোগ নেই।’
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, একজন ক্রিকেটার হিসেবে সাকিবের প্রতি অনেক সহনশীলতা দেখানো হলেও তিনি যখন সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক পরিচয়কে সামনে এনেছেন, তখন পরিস্থিতি বদলে গেছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক সিরাজুদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীরও একই সুরে কথা বলছেন। তার মতে, সাকিব তার রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষকে ক্রিকেট ক্যারিয়ারের চেয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং সবকিছুরই একটি মূল্য দিতে হয়, যা তিনি স্বেচ্ছায় বেছে নিয়েছেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে বিসিবিতে নানা পরিবর্তন এসেছে এবং সভাপতি পদে একাধিকবার রদবদল হয়েছে। পূর্ববর্তী সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন দেশ ছাড়ার পর ফারুক আহমেদ থেকে শুরু করে বর্তমান নেতৃত্ব পর্যন্ত সবাই সাকিবকে ফেরানোর ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন, তবে সরকারি কঠোর অবস্থানে এখন সেই সম্ভাবনার মৃত্যু ঘটেছে।
ভারতের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজকে সামনে রেখে এই ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সাকিবের অংশগ্রহণ নিয়ে চলছে তুমুল বিতর্ক। সরকারি সূত্রগুলোর ভাষ্যমতে, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে তার দেশে ফেরা আইনি জটিলতার সাপেক্ষে হবে এবং জাতীয় দলের হয়ে খেলার দরজা প্রায় রুদ্ধ। বয়স এবং বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিলে, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে তাকে দেখা গেলেও, লাল-সবুজের জার্সিতে সাকিবকে আর মাঠে না পাওয়ার সম্ভাবনাই এখন সবচেয়ে জোরালো। মাঠের পারফরম্যান্সে বহু রেকর্ড গড়া এই কিংবদন্তি এখন নিজেই নিজের ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় লিখলেন মাঠের বাইরের এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে।
