আয়কর আইনের সাতটি খাত ও রিটার্ন জমার পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা

দেশের চলমান আয়কর আইনের আওতায় করদাতাদের বার্ষিক আয়ের হিসাব স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করা এখন সময়ের দাবি। ২০২৩ সালের আয়কর আইন অনুযায়ী, করযোগ্য আয়কে সাতটি সুনির্দিষ্ট খাতে বিভক্ত করা হয়েছে, যার ওপর ভিত্তি করেই একজন করদাতার মোট করের পরিমাণ নির্ধারিত হয়। বর্তমানে বার্ষিক ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ে কোনো কর আরোপ করা হয়নি, তবে এর বেশি উপার্জিত অর্থের উৎস সম্পর্কে রিটার্ন ফর্মে সঠিক তথ্য প্রদান করা বাধ্যতামূলক। অনেক করদাতা সব আয়কে একত্রিত করে রিটার্ন দাখিল করলেও, প্রতিটি খাতের আলাদা করবিধি ও অব্যাহতি নীতিমালা সম্পর্কে সম্যক ধারণা না থাকলে আইনি জটিলতায় পড়ার ঝুঁকি থাকে।
চাকরিজীবী করদাতাদের বেতন, বোনাস ও ইনসেনটিভসহ সব ধরনের পারিশ্রমিক ‘চাকরি থেকে আয়’ হিসেবে গণ্য করা হয়। একইভাবে, শহর বা গ্রাম অঞ্চলে বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট কিংবা দোকান ভাড়া দিয়ে অর্জিত অর্থ ‘গৃহসম্পত্তি থেকে আয়’ খাতের অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে বাণিজ্যিক কৃষিকাজ ও পশুপালনের পরিধি বাড়ায়, কৃষি জমি থেকে অর্জিত মুনাফা বা ফসল বিক্রিলব্ধ অর্থ ‘কৃষি আয়’ হিসেবে করের আওতায় আনা হয়েছে। এ ছাড়া ব্যক্তিমালিকানাধীন ব্যবসা কিংবা পেশাগত সেবাদানকারী যেমন চিকিৎসক, আইনজীবী ও পরামর্শকদের অর্জিত অর্থ ব্যবসায়িক আয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে লভ্যাংশ, ব্যাংকের মুনাফা, সঞ্চয়পত্রের সুদ কিংবা সরকারি ট্রেজারি বন্ড থেকে প্রাপ্ত আয় ‘অন্যান্য উৎস থেকে আয়’ বা সুনির্দিষ্ট আর্থিক খাতে প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পাশাপাশি রয়্যালটি, মূলধনি সম্পদের ব্যবহার বাবদ আয় এবং যে সকল উপার্জন অন্য কোনো নির্দিষ্ট খাতে অন্তর্ভুক্ত হয় না, তা ‘অন্যান্য আয়ের উৎস’ হিসেবে রিটার্নে উল্লেখ করতে হয়। কর বিশেষজ্ঞগণ পরামর্শ দিচ্ছেন, আয়কর ফাইল নিরীক্ষাকালে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা এড়াতে প্রতিটি খাতের জন্য নির্ধারিত নিয়ম মেনে রিটার্ন দাখিল করা আবশ্যক। ভুল খাতে আয় প্রদর্শন করলে অতিরিক্ত কর আরোপ, জরিমানা এমনকি কর নির্ধারণ সংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে, যা একজন সচেতন করদাতার জন্য মোটেও কাম্য নয়।
