AdvertisementAdvertisement

জ্বালানি তেলের চড়া মূল্যে মার্কিন গ্রাহকদের ভোগান্তি, তেল জায়ান্টদের রেকর্ড মুনাফায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ যখন চরম অর্থনৈতিক হিমশিম খাচ্ছে, তখন দেশটির শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলোর রেকর্ড মুনাফা অর্জনের তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতার মধ্যে টেক্সাসভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান শেভরন, এক্সনমোবিল ও ভ্যালেরো এনার্জির মতো দানবীয় কোম্পানিগুলোর এই অতিমুনাফাকে অন্যায্য আখ্যা দিয়ে তিনি গভীর উষ্মা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে দেশটির কৌশলগত তেলের মজুদ চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে যাওয়ায় সাধারণ ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে করের বোঝা কমানোর দাবি জোরালো হচ্ছে।

সম্প্রতি মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল ফক্স নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেভরনের প্রধান নির্বাহী মাইক ওয়ার্থের বক্তব্যের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ট্রাম্পের দাবি, তাঁর প্রশাসনের দূরদর্শী পদক্ষেপ ও সহায়তার কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের তেল শিল্পটি পুনরুজ্জীবিত হয়েছে, যা শেভরনের প্রধান নির্বাহী সুবিধাজনকভাবে এড়িয়ে গেছেন। হিউস্টনভিত্তিক কোম্পানি শেভরনের দ্বিতীয় প্রান্তিকের রেকর্ড আয়ের প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, শেভরন এবং এক্সনমোবিল প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কম থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের বাড়তি দামের পুরো ফায়দা তুলেছে শেভরন। তাদের মোট তেল উৎপাদনের ৭০ শতাংশেরও বেশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্র থেকে আসে, যা এই সংকটের সময়ে তাদের মুনাফার মার্জিন বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক অভ্যন্তরীণ ইমেইল সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এই বিপুল মুনাফার পর শেভরন তাদের কর্মীদের মূল বেতনের অর্ধেক সমপরিমাণ বিশেষ বোনাস দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

শেভরনের পাশাপাশি অন্যান্য মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোও সদ্য সমাপ্ত প্রান্তিকে বিশাল মুনাফা ঘরে তুলেছে। টেক্সাসভিত্তিক এক্সনমোবিল দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৯.২ বিলিয়ন ডলার মুনাফা করেছে, যা বিগত চার বছরের মধ্যে তাদের সর্বোচ্চ প্রান্তিক আয়। অন্যদিকে পরিশোধিত তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভ্যালেরো এনার্জি মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ সংকটের সুযোগ নিয়ে দ্বিতীয় প্রান্তিকে তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৩.৭ বিলিয়ন ডলার নিট মুনাফা অর্জন করেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তেল কোম্পানিগুলোর এই রেকর্ড মুনাফার কোনো সুফল পাচ্ছেন না মার্কিন সাধারণ ভোক্তারা, যাদের এখন প্রতি গ্যালন পেট্রোলের জন্য ৪ ডলারের বেশি গুনতে হচ্ছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় মূল্য ৪.০৯ ডলার, যা এক মাস আগের ৩.৮২ ডলারের চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা শুরুর আগে এই মূল্য ছিল মাত্র ২.৯৮ ডলার।

ব্যাংক অব আমেরিকার এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নিম্ন আয়ের মার্কিন পরিবারগুলো জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হচ্ছে। অনেক দরিদ্র পরিবারকে তাদের মাসিক আয়ের ১০ শতাংশের বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে শুধু যাতায়াত ও পেট্রোলের পেছনে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির কৌশলগত তেলের মজুদ ২৮ লাখ ব্যারেল হ্রাস পেয়ে ৩০ কোটি ৪৮ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে, যা ১৯৮৩ সালের পর সর্বনিম্ন।

জ্বালানি খাতের এই লাগামহীন অতিমুনাফা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর ডেমোক্র্যাট শেলডন হোয়াইটহাউস এই মুনাফাকে অনৈতিক ও লোভের প্রকাশ বলে আখ্যায়িত করে জ্বালানি তেলের ওপর আরোপিত কর সাময়িকভাবে স্থগিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয়ই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা নীতিনির্ধারকদের ওপর চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন কড়া সমালোচনার পর পুঁজিবাজারে তেল কোম্পানিগুলোর শেয়ারে নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। দিনের মধ্যভাগের লেনদেনে শেভরনের শেয়ারের দর প্রায় ২ শতাংশের বেশি কমে গেছে। পাশাপাশি এক্সনমোবিলের শেয়ারের দরও শূন্য.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা শঙ্কার সৃষ্টি করেছে।

0%
0%
0%
0%