৫৫ লাখ নিম্নআয়ের পরিবার পেল ১৫ টাকায় চালের সুরক্ষা

দেশের প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি’র আওতায় সুলভ মূল্যে চাল বিতরণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। সোমবার খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, এই কর্মসূচির অধীনে নিবন্ধিত ৫৫ লাখ কার্ডধারী পরিবার বছরে মোট ছয় মাস—আগস্ট থেকে নভেম্বর এবং মার্চ ও এপ্রিল—১৫ টাকা কেজি দরে চাল কেনার সুযোগ পাবেন। নির্ধারিত এই সময়ে প্রতিটি পরিবার মাসে সর্বোচ্চ ৩০ কেজি করে চাল সংগ্রহ করতে পারবে।
সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো দেশের ৪৯৫টি উপজেলার দরিদ্র পরিবারগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা সুসংহত করা, বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং মন্দা বা কর্মহীন সময়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের অপুষ্টিজনিত সমস্যা নিরসনেও এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে ২৪৮টি উপজেলার প্রায় ২৫ লাখ ২৯ হাজার সুবিধাভোগীকে পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল এবং অবশিষ্ট ২৪৭টি উপজেলার প্রায় ২৯ লাখ ৭১ হাজার পরিবারকে সাধারণ চাল সরবরাহ করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই কর্মসূচির পাশাপাশি সারাদেশে ১ হাজার ১০৮টি বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে খোলা বাজারেও (ওএমএস) ভর্তুকি মূল্যে নিয়মিত চাল ও আটা বিক্রি চলমান রয়েছে। দেশের বর্তমান খাদ্যশস্যের মজুত পরিস্থিতি অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অধিক আশাব্যঞ্জক বলে দাবি করেছে মন্ত্রণালয়। বর্তমানে দেশে মোট ২৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৮৫ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য গচ্ছিত রয়েছে।
গচ্ছিত এই খাদ্যভাণ্ডারের মধ্যে ১৯ লাখ ৬৬ হাজার ১৪৮ মেট্রিক টন চাল, ২ লাখ ৮০ হাজার ১০ মেট্রিক টন গম এবং ধান থেকে প্রক্রিয়াজাতযোগ্য ১ লাখ ৫২ হাজার ১০৯ মেট্রিক টন চাল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বর্তমানে দেশব্যাপী খাদ্যশস্য সংগ্রহের কার্যক্রম পূর্ণ গতিতে পরিচালিত হচ্ছে। তারেক রহমান সরকারের এই বিশেষ উদ্যোগগুলো সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
