AdvertisementAdvertisement

মণিপুরে বড় ধরনের নাশকতা ব্যর্থ, ছয়টি আইইডি উদ্ধারসহ আটক ৩ জঙ্গি

ভারতর মণিপুর রাজ্যে জঙ্গি দমনে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী। ভারত-মায়ানমার সীমান্তের নিকটবর্তী অঞ্চলে পৃথক দুটি অভিযানে ছয়টি শক্তিশালী ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বা আইইডি উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করার পাশাপাশি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন কাংলেইপাক কমিউনিস্ট পার্টি–মীয়ামগী ফিংনাং লানমি বা কেসিপি-এমএফএল-এর তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রবিবার নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভারতীয় সেনা, অসম রাইফেলস এবং মণিপুর পুলিশের সমন্বয়ে একটি যৌথ বাহিনী এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে প্রশিক্ষিত স্নিফার ডগের সহায়তায় তেংনৌপাল জেলার মোরে থানার অধীন ভারত-মায়ানমার সীমান্তের ৭২ ও ৭৩ নম্বর সীমান্ত স্তম্ভের কাছে তল্লাশি চালানো হয়। এসময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা একটি ৯ এমএম পিস্তল, একটি ডাবল-ব্যারেল বন্দুক, ছয়টি ওয়্যারলেস রেডিও সেট, দুটি হ্যান্ড গ্রেনেড এবং ছয়টি আইইডি উদ্ধার করেন। জননিরাপত্তার স্বার্থে বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলেই বিস্ফোরকগুলো নিষ্ক্রিয় করেন, যা বড় ধরনের নাশকতার ঝুঁকি এড়াতে সক্ষম হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

একই সময়ে চন্দেল জেলার মোলচাম থানার অন্তর্গত গামফাজল গ্রামের কাছে ৬৯ নম্বর সীমান্ত স্তম্ভের কাছাকাছি আরেকটি অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠন কেসিপি-এমএফএল-এর তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে নিরাপত্তা বাহিনী। ধৃতরা হলেন ইম্ফল পূর্ব জেলার ২৬ বছর বয়সী ইয়ুমখাইবাম রোজিত, ইম্ফল পশ্চিম জেলার ২৪ বছর বয়সী খুমান্থেম বিদ্যাসাগর এবং বিষ্ণুপুর জেলার ২৭ বছর বয়সী হেমাম অরুণ সিং।

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত জঙ্গিদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তাদের নেটওয়ার্কের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করার পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে নাশকতার কোনো বৃহত্তর পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভারত-মায়ানমার সীমান্তের দুর্গম এলাকাগুলোতে নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে নিয়মিত তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

মণিপুরের স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করতে রাজ্যজুড়ে ১১৩টি নাকা বা চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে নিয়মিত যানবাহন ও সন্দেহভাজনদের ওপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, ধারাবাহিক গোয়েন্দা নজরদারি ও সমন্বিত অভিযানের ফলে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে রাজ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পরিস্থিতি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

0%
0%
0%
0%