কার্গিল যুদ্ধে নিহত সেনাদের মরদেহ গ্রহণের দাবি ফজলুর রহমানের পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক

কার্গিল বিজয় দিবসকে সামনে রেখে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে এক গভীর রাজনৈতিক বিতর্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলামের (জেইউআই-এফ) প্রধান মৌলানা ফজলুর রহমান দেশটির সামরিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে দাবি করেছেন যে, ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধে নিহত পাকিস্তানি সেনাদের প্রকৃত সংখ্যা আজও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, পাকিস্তান তার নিহত সেনাদের সম্মান জানাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
মৌলানা ফজলুর রহমানের অভিযোগ অনুযায়ী, কার্গিল যুদ্ধে নিহত বহু পাকিস্তানি সেনার মরদেহ যুদ্ধের ময়দানেই পড়ে ছিল এবং পাকিস্তান তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। তিনি দাবি করেন, ভারতই মানবিকতা ও ইসলামি রীতিনীতি মেনে সেই সেনাদের দাফনের ব্যবস্থা করেছিল। যুদ্ধের সময় ঠিক কতজন সেনা নিহত হয়েছিল এবং কতটি কফিন ফিরিয়ে আনা হয়েছিল, তা নিয়ে সরকারের স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের ব্যর্থতার দিকে ইঙ্গিত করে ফজলুর রহমান ক্যাপ্টেন কর্নেল শের খানের প্রসঙ্গটি সামনে নিয়ে আসেন। তিনি দাবি করেন, ক্যাপ্টেন শের খানের মরদেহ গ্রহণ করতেও তৎকালীন পাকিস্তান সরকার গড়িমসি করেছিল এবং ভারতের বারবার অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই তা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছিল। এমন ঘটনা নিজের বাহিনীর প্রতি সামরিক নেতৃত্বের দায়িত্বহীনতাকেই স্পষ্ট করে বলে তিনি মনে করেন।
কার্গিল যুদ্ধের সময় ইসলামাবাদ দাবি করেছিল যে, লড়াইয়ে জড়িতরা কাশ্মীরি বিদ্রোহী, পাকিস্তানের নিয়মিত কোনো সেনা নয়। কিন্তু ভারতের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই দাবি করা হয়েছিল যে, অনুপ্রবেশকারীরা মূলত পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্য, যারা ছদ্মবেশে ভারতীয় সীমান্ত চৌকিগুলো দখল করেছিল। পরবর্তীতে ভারত অনেক পাকিস্তানি সেনার মরদেহ উদ্ধার করলেও, পাকিস্তান নিজেদের সেনা হিসেবে তাদের পরিচয় দিতে অস্বীকার করে।
উল্লেখ্য যে, ১৯৯৯ সালের মে মাস থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত লাদাখের কার্গিল সেক্টরে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ভারতীয় সেনাবাহিনী ‘অপারেশন বিজয়’-এর মাধ্যমে পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারীদের হটিয়ে সমস্ত পাহাড়ি চৌকি পুনরুদ্ধার করে। ২৬ জুলাই ভারত এই যুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে, যা প্রতি বছর কার্গিল বিজয় দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
