হরমুজ প্রণালীতে ট্রানজিট ফি আদায়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেন ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ ট্রানজিট ফি আরোপের বিতর্কিত পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পরিবর্তে তিনি জানিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিনিময়ে উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ করবে। মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
এর আগে সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা রক্ষার ব্যয় নির্বাহ করতে ওয়াশিংটন ওই এলাকা দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক এই জলপথের নিয়ন্ত্রণকারী নয়, তবুও এমন ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তবে মঙ্গলবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেন যে, জলপথ ব্যবহারের জন্য সরাসরি কোনো ফি আদায়ের ধারণাটি তার পছন্দ নয়।
ট্রাম্পের নতুন এই কৌশলের আওতায় উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি সম্পাদন করবে। তবে এই বিশাল বিনিয়োগের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ বা রূপরেখা সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত শুরুর আগেই ওই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনা নতুন করে চরমে পৌঁছানোয় এই অঞ্চলের পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে। জুন মাসের মাঝামাঝি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও, সম্প্রতি নতুন করে হামলার ঘটনায় সেই চুক্তি এখন ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বুশেহর, বন্দর আব্বাস, মাহশাহর এবং আবাদানে নতুন করে হামলা চালানোর পাশাপাশি কেশম ও কিশ দ্বীপে বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী আকাশসীমায় অজ্ঞাত বস্তুর উপস্থিতি শনাক্ত করে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে। বাহরাইন ও জর্ডানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানোর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীতে নৌযানের ওপর হামলা অব্যাহত রাখার হুমকি দিয়েছে ইরান। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও অতীতে জানিয়েছিলেন যে, আন্তর্জাতিক জলপথে কোনো ধরনের ফি বা শুল্ক আদায় আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী, যা ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের অবস্থানের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা