বাণিজ্য উপদেষ্টার সঙ্গে থাই রাষ্ট্রদূতের বৈঠক: বাণিজ্য বাড়াতে নতুন সামুদ্রিক রুট ও এফটিএর ওপর গুরুত্ব

বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ন চিরাসাওয়াদি আজ রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বাণিজ্য উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ এবং নৌপরিবহন সুবিধাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর বিষয়ে জোর দেওয়া হয়।
বৈঠকে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ সরকার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করছে। এ সুবিধা কাজে লাগিয়ে থাইল্যান্ডের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের ঔষধ, চিংড়ি, আসবাবপত্র ও পর্যটন শিল্পে বিনিয়োগ করতে পারে। এসব বিনিয়োগ দুই দেশের জন্যই লাভজনক হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সমুদ্রপথ ও নৌপরিবহনের মাধ্যমে লজিস্টিক সংযোগ আরও শক্তিশালী করতে একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) হলে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য ভলিউম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলেও তিনি জানান।
থাই রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ন চিরাসাওয়াদি প্রথমবারের মতো রানং বন্দর এবং চট্টগ্রাম বন্দরের মধ্যে সামুদ্রিক বাণিজ্য রুট চালুর বিষয়টি এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, থাইল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলের রানং সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
বর্তমানে বিদ্যমান নৌপরিবহন ব্যবস্থায় থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে পণ্য আসতে যেখানে ১৪ থেকে ১৫ দিন সময় লাগে, সেখানে নতুন রুট ব্যবহার করলে মাত্র ৪ থেকে ৭ দিনেই চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হবে। একইভাবে চট্টগ্রাম থেকেও থাইল্যান্ডসহ আশপাশের দেশের বন্দরে দ্রুত পণ্য পরিবহন করা যাবে বলে তিনি জানান।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এ ধরনের অবকাঠামোগত সংযোগ ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন থাই রাষ্ট্রদূত।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. আব্দুর রহিম খান এবং থাই দূতাবাসের মিনিস্টার কাউন্সেলর উপস্থিত ছিলেন।