জামালপুর সীমান্তে বৃদ্ধকে পুশইনের অপচেষ্টা বিএসএফের, শূন্যরেখায় মানবেতর জীবনযাপন

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ঝাউডাঙ্গা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে এক বয়স্ক মুসলিম ব্যক্তিকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। কয়েক দিন ধরে দুই দেশের মধ্যবর্তী শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন চেন্নাইয়ের বাসিন্দা প্রায় ৬০ বছর বয়সি এই বৃদ্ধ। তীব্র রোদ, বৃষ্টি আর অনাহারে খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চিত ও আতঙ্কগ্রস্ত দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্র ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তথ্যমতে, ভারতের আসাম রাজ্যের নন্দীরচর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা এই বৃদ্ধকে কাঁটাতারের বেড়া পার করে বাংলাদেশের ভেতরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে জামালপুর ৩৫ বিজিবির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় এই পুশইন প্রচেষ্টা প্রতিহত করেন। একপর্যায়ে তিনি ভারতের দিকে ফিরে যেতে বাধ্য হলে বিএসএফ সদস্যরা তাকে পুনরায় ধাওয়া দিয়ে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সীমান্তের কাঁটাতারের মাঝে আটকে পড়া অসহায় মানুষটির চোখেমুখে ছিল চরম আতঙ্ক ও ক্লান্তির ছাপ। বিজিবি ও স্থানীয়দের কঠোর অবস্থানের মুখে তিনি বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি, ফলে শূন্যরেখায় অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছেন। দুই দেশের সীমানার মাঝে পড়ে থাকা বৃদ্ধের এই করুণ অবস্থা দেখে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান জানান, বিএসএফ বেশ কিছুদিন ধরেই এই সীমান্তে অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিজিবি এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।
সীমান্তবর্তী বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় মুসলিম নাগরিকদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠানোর ঘটনা বেড়ে গেছে। অনেকের মতে, ভারতের প্রান্তিক ও দরিদ্র মুসলিম জনগোষ্ঠী প্রায়শই এই ধরনের অমানবিক আচরণের শিকার হচ্ছেন। ভারতীয় পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও অনেককে বাংলাদেশি দাবি করে পুশইন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার নীতিমালার চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, নাগরিকত্বের যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে অন্য দেশের ভূখণ্ডে ঠেলে দেওয়া কেবল সীমান্ত আইন পরিপন্থী নয়, বরং তা মানবিক মূল্যবোধের চরম অবমাননা। সীমান্তে দাঁড়িয়ে থাকা ওই বৃদ্ধ এখন বিশ্ববিবেকের কাছে নাগরিকত্ব ও রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা নিয়ে এক বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছেন।