AdvertisementAdvertisement

ট্রানজিশনের অগ্নিপরীক্ষায় ভারত গৌতম গম্ভীরের তারুণ্যনির্ভর টেস্ট দল কি পারবে বিশ্বমঞ্চে ঘুরে দাঁড়াতে

গৌতম গম্ভীরের কোচিংয়ে ভারতীয় ক্রিকেট এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। সাদা বলের ক্রিকেটে ভারত একের পর এক সাফল্য পেয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখলেও টেস্ট ফরম্যাটে চিত্রটি বেশ জটিল। এশিয়া কাপ, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর সাদা বলের ক্রিকেটে ভারত অপ্রতিরোধ্য শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে টেস্টের আঙিনায় গত কয়েক বছর দলটি বেশ প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, চেতেশ্বর পুজারা এবং রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের অবসরের পর ভারতীয় দল গত এক দশকের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশকে ঘরের মাঠে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ শুরুর পর ভারত নিউজিল্যান্ডের কাছে ৩-০, অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩-১ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ হারের তিক্ত স্বাদ পেয়েছে। মাঝের সময়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-২ ব্যবধানে ড্র এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানের জয় কিছুটা স্বস্তি দিলেও বর্তমান দলটির ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে। এখন আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় কোনো প্রভাব না ফেললেও ভারতের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান চক্রে পয়েন্ট তালিকায় ভারত বর্তমানে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে, যা তাদের ফাইনালে ওঠার পথকে কঠিন করে তুলেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

দলটির এই কঠিন সময়ে কোচ গম্ভীর তার শিষ্যদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ইংল্যান্ড সিরিজের পরেই মূলত পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছে এবং এই তরুণ খেলোয়াড়দের অভ্যস্ত হতে সময়ের প্রয়োজন। অধিকাংশ খেলোয়াড়ই এখনো ৩০টি টেস্ট খেলার মাইলফলক স্পর্শ করেননি। গম্ভীরের মতে, অজুহাত না খুঁজে এই প্রতিভাবান তরুণদের ওপর আস্থা রাখা প্রয়োজন। তার বিশ্বাস, যথাযথ সুযোগ পেলে ভারত আবারও টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে ফিরে আসবে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

নির্বাচনের ক্ষেত্রেও দল ব্যবস্থাপনা এখন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ওপর জোর দিচ্ছে। তিন নম্বর পজিশন নিয়ে অনেক আলোচনা থাকলেও সাই সুদর্শনকে নিয়মিত সুযোগ দেওয়ার পক্ষে গম্ভীর। তিনি মনে করেন, অল্প কিছু ম্যাচের পারফরম্যান্স দিয়ে কোনো খেলোয়াড়ের ভাগ্য নির্ধারণ করা অনুচিত। দেবদূত পাডিক্কালের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা লাইনে থাকলেও, যারা বর্তমানে দলে আছেন তাদের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়ার পক্ষপাতি কোচ।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের টেবিল ভিন্ন বাস্তবতায় চললেও, গম্ভীরের মূল লক্ষ্য হলো একটি শক্তিশালী দল গড়ে তোলা। অভিজ্ঞদের শূন্যস্থান পূরণ করা চাট্টিখানি কথা নয়, তবে সেই ঝুঁকি নিয়েই ভারত এখন নতুন দিগন্তের সন্ধানে। তরুণদের ওপর বিনিয়োগ এবং তাদের পাশে থাকার নীতিই ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ সাফল্যের চাবিকাঠি হিসেবে দেখছেন প্রধান কোচ। এখন দেখার বিষয়, এই রূপান্তরের মধ্য দিয়ে ভারত বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নিজেদের জায়গা করে নিতে পারে কি না।

0%
0%
0%
0%