গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে পুল্টের নিয়োগ নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক ও সংশয়

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ পদে নতুন নিয়োগ নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের ঝড় উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার আকস্মিকভাবে ব্যবসায়ী ও ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সির প্রধান বিল পুল্টেকে ভারপ্রাপ্ত জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। তুলসী গ্যাবার্ডের পদত্যাগের পর এই দায়িত্ব পেলেন ৩৮ বছর বয়সী পুল্টে, যার গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটিক উভয় শিবিরের আইনপ্রণেতারা পুল্টের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, পুল্টে তার বর্তমান দায়িত্বগুলো পালনের পাশাপাশি নতুন এই পদের দায়িত্ব সামলাবেন। বর্তমানে তিনি ফার্নি মে ও ফ্রেডি ম্যাকের মতো বিশাল আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দেখভাল করছেন, যেখানে ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের তহবিল রয়েছে।
পুল্টের অতীত কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তার আক্রমণাত্মক অবস্থান আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতীতে তিনি নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস এবং ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর অ্যাডাম শিফের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মর্টগেজ জালিয়াতির অভিযোগ এনেছিলেন। এমনকি ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুককেও একই ধরণের অভিযোগের মাধ্যমে সরানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি, যা মার্কিন রাজনীতিতে বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।
সিনেটে ডেমোক্র্যাটিক দলীয় নেতা চার্লস শুমার পুল্টেকে ‘দলীয় গুণ্ডা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার মতো সংবেদনশীল দায়িত্বে এমন কাউকে বসানো অসম্ভব, যিনি ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে ভিত্তিহীন অভিযোগ আনেন। এছাড়া সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির সদস্যসহ একাধিক রিপাবলিকান সিনেটরও পুল্টের গোয়েন্দা দক্ষতা নিয়ে চরম সংশয় প্রকাশ করেছেন। রিপাবলিকান সিনেটর জন কর্নিন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই পদে কাজ করার মতো কোনো যোগ্যতা তিনি পুল্টের মধ্যে দেখতে পাচ্ছেন না।
নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির স্নাতক পুল্টে গোয়েন্দা কার্যক্রম সম্পর্কে কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাসহ (এনএসএ) ১৮টি গোয়েন্দা বিভাগ পরিচালনার দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। সেনেটের অনুমোদন ছাড়াই তিনি আইন অনুযায়ী ২১০ দিন এই পদে বহাল থাকতে পারবেন। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত এই সময়কাল অতিক্রান্ত হবে, যা ট্রাম্পের কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
তবে রিপাবলিকান সিনেটর জন থুন সতর্ক করে বলেছেন, যদি প্রেসিডেন্ট তাকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দিতে চান, তবে পুল্টেকে অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, নাইন-ইলেভেনের মতো ট্র্যাজেডির পর জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই এই পদের জন্য ব্যাপক অভিজ্ঞতার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ট্রাম্প এমন একজনকে নিয়োগ দিলেন, যার লক্ষ্য দেশের স্বার্থ রক্ষা করা নয়, বরং হোয়াইট হাউসের কাঙ্ক্ষিত বয়ান তৈরি করা।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা