মানুষ চিনতে ভুল নিয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের রহস্যময় পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা

সোশ্যাল মিডিয়ায় এক রহস্যময় পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। শনিবার সন্ধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সাংসদ তথা ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়ার নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার ফেসবুকে লেখেন, ‘চল্লিশ বছর ধরে মানুষ চিনতে এত ভুল করলাম! একটাই তো জীবন, জীবনটা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছিল।’ কার উদ্দেশ্য করে বা কোন প্রেক্ষাপটে তিনি এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু না জানালেও তাঁর এই পোস্ট ঘিরে নেটপাড়ায় শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়। অনেকেই কটাক্ষ করে মন্তব্য করেছেন যে, বারাসতের মানুষও হয়তো ঠিক একই কথা ভাবছেন।
এই পোস্টের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই কাকলি ঘোষ দস্তিদারসহ এনসিপিআইয়ের সাংসদদের একটি প্রতিনিধিদল ভারতর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর সরকারি বাসভবনে প্রাতঃরাশ বৈঠকে মিলিত হন। দলছুট হওয়া ২০ জন সাংসদের মধ্যে ১৯ জনই এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর বারাসতের এই সাংসদ ভারতর প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাঁর অমায়িক ব্যবহারের পাশাপাশি গভীর জ্ঞান দেখে মুগ্ধ হওয়ার কথা জানান।
ভারতর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে কাকলি জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁদের এনডিএ পরিবারের সদস্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের আটটি রাজ্যের উন্নয়নের জন্য একসঙ্গে কঠোর পরিশ্রম করার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া জাতীয় হ্যান্ডলুম দিবস উপলক্ষে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বাংলার ঐতিহ্যবাহী কাঁথা কাজের উত্তরীয় উপহার দেন। তাঁর দাবি, এই উপহার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অত্যন্ত পছন্দ করেছেন এবং কলকাতার হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনা ও বাংলার সামগ্রিক অগ্রগতি নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে পা রাখা কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই পোস্ট আসলে কোনো নির্দিষ্ট ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপির ঘনিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে তাঁর ওপর আসা রাজনৈতিক আক্রমণের প্রেক্ষিতেই তিনি এমন আবেগপ্রবণ বার্তা দিয়েছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে পোস্টটি সম্পাদনা করে কিছুটা পরিবর্তনের মাধ্যমে তিনি যে দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও মোহভঙ্গের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, তা স্পষ্ট। এই রহস্যময় মন্তব্যের পরবর্তী প্রতিক্রিয়া কী হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
