AdvertisementAdvertisement

বেনগাজিতে লিবীয় জাতীয় সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা প্রধানকে হত্যায় নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ

পূর্ব লিবিয়ার সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান মেজর জেনারেল ফৌজি আল-মানসুরিকে এক ভয়াবহ গুপ্তহত্যার মাধ্যমে প্রাণহানি ঘটানো হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার রাতে বেনগাজির হাওয়ারি জেলায় নিজ বাসভবনের সামনে গাড়িতে ওঠার সময় আগে থেকে পেতে রাখা শক্তিশালী ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বা আইইডি বিস্ফোরিত হলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। দেশটির নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট দুটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী ওসামা সাদ হাম্মাদ এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি একে বিশ্বাসঘাতকতামূলক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করে অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, লিবিয়ার মাটিতে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড কিংবা সন্ত্রাসবাদে উসকানিদাতাদের কোনো স্থান নেই এবং এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যারা অর্থায়ন ও পরিকল্পনা করেছে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

২০২৪ সালে মেজর জেনারেল পদমর্যাদায় বেনগাজির সামরিক গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন আল-মানসুরি। তার এই আকস্মিক মৃত্যু দেশটিতে বিদ্যমান ভঙ্গুর নিরাপত্তা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। ২০২০ সালে যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর বড় ধরনের সংঘাত থেমে গেলেও, প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোর আধিপত্য এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা লিবীয় জনজীবনে এখনো গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ২০১১ সালে ন্যাটো সমর্থিত অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই লিবিয়া কার্যত দ্বিধাবিভক্ত। বর্তমানে কমান্ডার খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি বা এলএনএ পূর্বাঞ্চলীয় বেনগাজিভিত্তিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে দেশটির বিশাল অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে রাজধানী ত্রিপোলি থেকে, যারা মূলত দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের কর্তৃত্ব ধরে রেখেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%