মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে পৌঁছেছে। নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতের রেশ ধরে এবার ইরানের রাজধানী তেহরানের সন্নিকটে প্রথমবারের মতো বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে নিরীহ নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই হামলার ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার ভোরে বন্দর আব্বাস, গ্রেটার টুনব দ্বীপসহ ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে। সেন্টকমের ভাষ্যমতে, তেহরানের কমান্ড সেন্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, মিসাইল ও ড্রোন সক্ষমতা এবং উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্রগুলো তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
আহভাজ শহরের একটি হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ২১১ জন রোগীকে জরুরিভিত্তিতে সরিয়ে নিতে হয়েছে। তেহরান, পাকদাশত এবং পারচিনে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, আন্দিমেশক শহরের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এছাড়া, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের দিকে যাত্রা করা একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার হিলফায়ার মিসাইল ছুড়ে অকেজো করে দিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে। কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে রাডার সিস্টেম ও জ্বালানি ট্যাংক এবং বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন পেট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডারে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। জর্ডান জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় আটটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে।
সংকট সমাধানে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ গালিবফ হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির শর্ত পূরণ না করলে পূর্ণ মাত্রার সামরিক সংঘাতের জন্য প্রস্তুত রয়েছে ইরান। দেশটি একে তাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে অভিহিত করেছে। একই সঙ্গে, মার্কিন নৌ-অবরোধের প্রতিবাদে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি রপ্তানি বন্ধের হুমকি দিয়েছে আইআরজিসি।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বক্তব্যে দাবি করেছেন, পর্দার আড়ালে ইরান শান্তি চুক্তির চেষ্টা করছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরান যদি সমঝোতায় না আসে, তবে ওয়াশিংটন চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। যদিও এর মধ্যেই দীর্ঘ সময় ধরে কারাবন্দি মার্কিন নাগরিক ডেনা কারারিকে মুক্তি দেওয়ায় ট্রাম্প ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভেন্স ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের পক্ষে অবস্থান নিলেও সংঘাত নিরসনে একটি চুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।