মেক্সিকোর সঙ্গে কার্টেল যোগসাজশের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিলেন শেইনবাম

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাম মার্কিন মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ডিইএ) প্রধান টেরি কোলের বিতর্কিত মন্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করে এটিকে ভিত্তিহীন রাজনৈতিক বয়ান বলে অভিহিত করেছেন। বুধবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট শেইনবাম অভিযোগ করেন, মেক্সিকো সরকার এবং দেশটির প্রভাবশালী অপরাধী চক্রগুলোর মধ্যে যোগসাজশ রয়েছে বলে ডিইএ যে দাবি করেছে, তার পেছনে কোনো জোরালো প্রমাণ নেই।

প্রেসিডেন্ট শেইনবাম সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মেক্সিকোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এ ধরনের অযাচিত মন্তব্য করার পরিবর্তে ডিইএর উচিত তাদের নিজেদের দেশে মাদক পাচার, বিতরণ এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধের ওপর মনোনিবেশ করা। তিনি বিশ্ববাজারে মাদকের সবচেয়ে বড় গ্রাহক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করেন এবং দেশটির দায়িত্বহীনতার দিকে আঙুল তোলেন।

এর আগে ডিইএ প্রশাসক টেরি কোলে দাবি করেছিলেন যে, মেক্সিকোর সরকার এবং কার্টেল নেটওয়ার্কগুলো কার্যত একই সত্তা। ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এমন বক্তব্য সমর্থন করে মেক্সিকোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট শেইনবাম পাল্টা জবাবে জানান, সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার শর্তে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে অপরাধ দমনে কাজ করতে মেক্সিকো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে বিদেশি হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই কাম্য নয়।

দ্বিতীয় মেয়াদে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মেক্সিকোর ওপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রয়েছে। যদিও শুরুতে দুই নেতার মধ্যে উষ্ণ সম্পর্কের আভাস পাওয়া গিয়েছিল, তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিকীকৃত নীতির বিরুদ্ধে মেক্সিকোর ক্ষোভ ক্রমাগত বাড়ছে। প্রেসিডেন্ট শেইনবাম বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে, মেক্সিকোর সম্মতি ছাড়া দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা নেই।

গত এপ্রিল মাসে সিনালোয়ার গভর্নর রুবেন রোচার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আনা অভিযোগের সমালোচনা করে শেইনবাম বলেছিলেন, পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের অভিযোগ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অস্থিরতা তৈরির নামান্তর। সম্প্রতি মেক্সিকো সরকার ট্রাম্পের গণ-বহিষ্কার অভিযানে দেশটির নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় মার্কিন কৌঁসুলিদের কাছে ফৌজদারি অভিযোগও দায়ের করেছে।

এদিকে, পরিস্থিতির জটিলতা আরও বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় মেক্সিকোর দুটি অপরাধী সংগঠন জুয়ারেজ কার্টেল এবং লস ভিয়াগ্রাসকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন ল্যাটিন আমেরিকায় তাদের কার্যক্রমকে ‘নার্কো-সন্ত্রাসবাদ’ বিরোধী যুদ্ধ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে, যা দুই প্রতিবেশী দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটাচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

০%
০%
০%
০%