২০২০ সালের নির্বাচন নিয়ে স্পষ্ট জবাব এড়িয়ে সেনেটের তোপের মুখে ক্লেটন

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হিসেবে মনোনীত জে ক্লেটন বুধবার সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির শুনানিতে অংশ নিয়ে চরম বিতর্কের মুখে পড়েছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই মনোনীত প্রার্থীকে সিনেটররা ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের বিজয় সম্পর্কে সরাসরি প্রশ্ন করলে তিনি বারবার তা এড়িয়ে যান। এই ঘটনাকে ঘিরে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

ম্যানহাটনের ফেডারেল প্রসিকিউটর জে ক্লেটনকে জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক বা ডিএনআই পদে নিয়োগের জন্য এই শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। কিন্তু শুনানির শুরুতেই রিপাবলিকান দলীয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভিত্তিহীন নির্বাচনী দাবির ছায়া পুরো প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব ফেলে। ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করে আসছেন যে ২০২০ সালের নির্বাচনে তিনি জয়ী হয়েছিলেন, যার ফলে সংশয় দেখা দিয়েছে যে গোয়েন্দা সংস্থাকে ট্রাম্প তার এই রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যবহার করবেন কি না।

সিনেট অধিবেশনে ডেমোক্র্যাট দলীয় সিনেটর জন ওসফ সরাসরি জানতে চান, ২০২০ সালের নির্বাচনে কে জয়ী হয়েছিলেন। জবাবে ক্লেটন কোনো স্পষ্ট উত্তর না দিয়ে জানান যে তিনি এ নিয়ে কোনো বিতর্কে জড়াতে চান না। ওসফ তাকে মনে করিয়ে দেন যে, এটি একটি চাকরির সাক্ষাৎকার এবং কমিটির কাছে সত্য ও নিরপেক্ষ থাকা তার নৈতিক দায়িত্ব। তবে ক্লেটন তার অবস্থানে অনড় থেকে দাবি করেন যে তিনি ইতিমধ্যে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।

অপরদিকে, ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক কেলি পুনরায় বিষয়টি উত্থাপন করলে ক্লেটন কৌশলগতভাবে জানান, বাইডেন সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি ইলেক্টোরাল ভোট পেয়েছিলেন এবং তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু কেলি যখন সরাসরি জানতে চান, যার সবচেয়ে বেশি ইলেক্টোরাল ভোট থাকে তিনিই কি বিজয়ী হন, তখন ক্লেটন বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, এটি সিনেটরের নিজস্ব ব্যাখ্যা এবং তিনি এই বিষয়ে আর কোনো আলোচনা করতে ইচ্ছুক নন।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেন ৩০৬টি ইলেক্টোরাল ভোট পেয়েছিলেন, যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঝুলিতে ছিল ২৩২টি। এছাড়া বাইডেন আট কোটি ১২ লাখ ৮৪ হাজার ৬৬৬টি পপুলার ভোট পান, বিপরীতে ট্রাম্প পান সাত কোটি ৪২ লাখ ২৪ হাজার ৩১৯টি ভোট। নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির ট্রাম্পের দাবিগুলো বারবার আদালতে খারিজ হয়ে গেলেও তিনি তা এখনো মেনে নেননি।

সিনেটর মার্ক কেলি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মনোনীত প্রার্থীদের এই প্রবণতা বিপজ্জনক যে তারা প্রেসিডেন্টের কোনো মতের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতে ভয় পান। ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতা চাক শুমার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় প্রশ্ন তোলেন, যে ব্যক্তি ২০২০ সালের নির্বাচনের সত্যতা স্বীকার করতে পারেন না, তিনি কীভাবে দেশের গোয়েন্দা সংস্থা পরিচালনার মতো গুরুদায়িত্ব পালন করবেন।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

০%
০%
০%
০%