Advertisement

ফিফার নিয়ম ভঙ্গ ও দুর্নীতির অভিযোগে ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি প্লাতিনির

ফিফার বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন ফরাসি ফুটবল কিংবদন্তি মিশেল প্লাতিনি। ফুটবল বিশ্বের নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়া এবং একের পর এক বিতর্কের প্রেক্ষিতে প্লাতিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইনফান্তিনোর এখনই পদত্যাগ করা উচিত। তার মতে, ফুটবলের নিয়মনীতির অভিভাবক হিসেবে ইনফান্তিনো পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন এবং তিনি মাঠের কোনো আইনই যথাযথভাবে মেনে চলেননি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বিশ্বকাপে বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন ৫৬ বছর বয়সী ইনফান্তিনো। প্লাতিনি অভিযোগ করেন, বিশ্বকাপের সময় হাইড্রেশন বিরতির নামে চার মিনিট পর্যন্ত সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে, যা মূলত সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। এছাড়া ফাইনাল ম্যাচে নির্ধারিত ১৫ মিনিটের পরিবর্তে ৩০ মিনিটের বিরতি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার মতো ঘটনাগুলো ফুটবলের মূল চেতনার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

ইনফান্তিনোর ব্যক্তিগত বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নিয়ে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফা শুরু থেকেই সোচ্চার। উয়েফা এমনকি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ‘অপরাধমূলক অব্যবস্থাপনা’র অভিযোগও এনেছে। মার্চ মাসে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার অপেক্ষায় থাকা ইনফান্তিনোর ওপর এখন এএফসি ও কনকাকাফের মতো সংস্থাগুলোও চাপ বাড়াচ্ছে। তবে প্লাতিনির মতে, কেবল ক্রীড়া সংস্থার চাপে ইনফান্তিনোকে সরানো সম্ভব নয়; তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে হলে আদালতের শরণাপন্ন হতেই হবে।

বিজ্ঞাপন

ক্ষমতা ও অর্থের প্রতি ইনফান্তিনোর প্রবল আসক্তি নতুন কিছু নয় বলে মন্তব্য করেন প্লাতিনি। নিজের অতীত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি জানান, ২০১৫ সালে জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ার পর তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল, যে সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২০১৬ সালে ইনফান্তিনো ফিফার মসনদে বসেন। যদিও ২০২৫ সালে প্লাতিনি সব অভিযোগ থেকে নির্দোষ প্রমাণিত হন।

বর্তমানে ইনফান্তিনো, মার্কো ভিলিগার এবং ডোমেনিকো স্কালার বিরুদ্ধে ফ্রান্সে মামলা দায়ের করেছেন প্লাতিনি। তার অভিযোগ, ২০১৫ সালে তাকে ফিফা সভাপতি নির্বাচনে বাধা দেওয়ার লক্ষ্যে একটি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তাকে ফাঁসানো হয়েছিল। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে চলমান বিভিন্ন তদন্তের প্রেক্ষাপটে ফুটবল বিশ্ব এখন নতুন কোনো মোড়ের অপেক্ষায় রয়েছে। এই বিষয়ে ফিফার কাছে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তারা কোনো সাড়া দেয়নি।

সম্পর্কিত- খেলাধুলা
0%
0%
0%
0%