AdvertisementAdvertisement

বিশ্বকাপ জয়ের মিশনে কনরাডের নতুন স্বপ্ন দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে ইতিহাস গড়ার চ্যালেঞ্জ

ক্রিকেট এবং শুকরি কনরাড—এই দুই সত্তা যেন একে অপরের পরিপূরক। ৫৯ বছর বয়সী কনরাডের জীবনের পুরোটাই আবর্তিত হয়েছে ব্যাট-বলের এই লড়াইকে ঘিরে। ক্লাব পর্যায় থেকে শুরু করে প্রাদেশিক ক্রিকেট, কোচিংয়ের নানা আঙ্গিনায় তার দীর্ঘ বিচরণ। তার বাবা ডিকি কনরাডও ছিলেন ক্রিকেটের একনিষ্ঠ অনুরাগী। ২০০৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়ায় আয়োজিত ওয়ানডে বিশ্বকাপের সময় কনরাড ছিলেন লায়ন্স দলের কোচ এবং টিভি ধারাভাষ্যকার। সেই বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্সে, যা ছিল কনরাডের হোম গ্রাউন্ড। তখন বড় এই ম্যাচের অনেকগুলো টিকিট জোগাড় করার সুযোগ থাকলেও তিনি তা পরিবারের সদস্যদের জন্য বিলিয়ে দিয়েছিলেন। এই ঘটনাটি তার ব্যক্তিত্বের নিঃস্বার্থতা ও বাস্তববাদী মানসিকতারই পরিচয় দেয়।

আগামী বছর অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে আবারও আফ্রিকাতে ফিরছে পুরুষদের ওয়ানডে বিশ্বকাপ। এবারের আসরে কনরাড আর ধারাভাষ্যকার কক্ষে বসে থাকবেন না, বরং ডাগআউটে বসে চেষ্টা করবেন সেই অসাধ্য সাধন করতে, যা দক্ষিণ আফ্রিকার আগের কোনো কোচই করতে পারেননি—বিশ্বকাপ শিরোপা জয়। বর্ণবাদের কারণে প্রথম চারটি আসরে অংশ নিতে না পারা প্রোটিয়ারা পরবর্তী নয়টি আসরের কোনোটিতেই ফাইনালের মঞ্চ স্পর্শ করতে পারেনি। সাতটি নকআউট ম্যাচের মধ্যে তারা জয় পেয়েছে মাত্র একটিতে। বারবার সেমিফাইনাল বা কোয়ার্টার ফাইনালে গিয়ে থমকে যাওয়ার এই আক্ষেপ দীর্ঘদিনের।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তবে কনরাড মনে করেন, তরুণ খেলোয়াড়দের মধ্যে এখন খেলার ধরণ নিয়ে অনেক বেশি স্বাধীনতা রয়েছে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের প্রভাব হয়তো তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে কিছুটা মুক্ত হাওয়া নিয়ে এসেছে। কনরাডের অধীনেই গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (ডব্লিউটিসি) জয় করে, যা তাদের মধ্যে শিরোপা জয়ের বিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছে। বিশেষ করে ডিসেম্বর ২০২৪ সালে সেঞ্চুরিয়নে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই উইকেটের সেই শ্বাসরুদ্ধকর জয় এবং জুনে লর্ডসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৭৪ রানের ঘাটতি ঘুচিয়ে পাঁচ উইকেটে জয় তাদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেয়। সেঞ্চুরিয়নের সেই ম্যাচটি কনরাডের কাছে ছিল সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

যদিও ডব্লিউটিসি জয়ই সাফল্যের শেষ কথা নয়, সেটিই যেন ফুটে উঠেছে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চে শ্রীলঙ্কা ও ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। টুর্নামেন্টের অন্যতম অপরাজিত দল হিসেবে সেমিফাইনালে পা রাখলেও, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নয় উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরে প্রোটিয়াদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন সেবারও ধূলিসাৎ হয়েছিল। কনরাড অবশ্য আত্মতুষ্টিতে ভুগতে নারাজ। তিনি মনে করেন, অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে বিশ্বকাপের পরবর্তী চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ক্রিকেটের অনেক ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া কনরাডের জন্য আসন্ন বিশ্বকাপ হতে পারে তার সাফল্যের মুকুটের সবচেয়ে উজ্জ্বল পালক।

Advertisement
বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%