বিশ্বকাপের ব্রোঞ্জ যুদ্ধে মুখোমুখি ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে উত্তাপের হাতছানি

২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালের হতাশাকে পেছনে ফেলে শনিবার ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। মায়ামি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই লড়াইটি ফুটবলের পরিভাষায় 'ব্রোঞ্জ ফাইনাল' নামে পরিচিত। যদিও সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দলগুলোর জন্য এই ম্যাচটি এক প্রকার বাধ্যতামূলক আয়োজন, তবে ফিফা ও আয়োজক দেশগুলোর জন্য এটি বাড়তি রাজস্ব ও প্রচারণার একটি বড় সুযোগ।

১৯৩৪ সালে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ আসরে প্রথমবারের মতো এই প্লে-অফ ম্যাচটি প্রবর্তিত হয়, যেখানে জার্মানি ৩-২ গোলে অস্ট্রিয়াকে পরাজিত করে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল। ১৯৫০ সালের আসর বাদে ১৯৫৪ সাল থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপেই এই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই ম্যাচটি গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইয়ে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, ফিফা অনুমোদিত ম্যাচ হওয়ায় এই ম্যাচে করা গোলগুলো গোল্ডেন বুটের হিসেবে গণ্য হয়। ১৯৫৮ সালের আসরে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ৪ গোল করে নিজের টুর্নামেন্ট গোলসংখ্যা ১৩-তে উন্নীত করেছিলেন, যা আজও এক আসরে একক খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড।

বর্তমান গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন। তবে তার ঠিক পেছনেই ৮ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট নিয়ে অবস্থান করছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এই তালিকায় হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহাম উভয়েরই গোলসংখ্যা ৬। ফলে শনিবারে এই ম্যাচটি গোল্ডেন বুট জয়ের সমীকরণ বদলে দেওয়ার পূর্ণ সম্ভাবনা রাখে। এছাড়া, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান অর্জনকারী দলের প্রাইজমানির পার্থক্য প্রায় ২০ লক্ষ ডলার, যা খেলোয়াড় ও দলগুলোর জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করতে পারে।

ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম এই ম্যাচটিকে মর্যাদার লড়াই হিসেবে দেখছেন এবং জয় পেতে মরিয়া। অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করে জানিয়েছেন, কোনো খেলোয়াড়ই আসলে ফাইনাল না খেলে এই সান্ত্বনা পুরস্কারের ম্যাচে নামতে আগ্রহী নন, তবুও নিয়মের খাতিরে তাদের মাঠে নামতে হচ্ছে। ইতিহাসে ফ্রান্স তিনবার এই প্লে-অফে অংশ নিয়ে দুইবার জয়ী হয়েছে, অন্যদিকে ইংল্যান্ড তাদের আগের দুটি প্লে-অফ ম্যাচেই পরাজয় বরণ করেছে। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৪ বার তৃতীয় স্থান অর্জন করার রেকর্ডটি জার্মানির দখলে। স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় শুরু হতে যাওয়া এই শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইটির দিকেই এখন তাকিয়ে আছে ফুটবল বিশ্ব।

০%
০%
০%
০%