বাতিলের সঙ্গে আপস নয় ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় অটল থাকার আহ্বান মুফতি আলী হাসান উসামার

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার ওসমানীনগর ইসলামিক একাডেমি দাখিল মাদরাসায় অনুষ্ঠিত মাসব্যাপী সীরাত ফেস্টের সমাপনী ও বার্ষিক সীরাত মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ মুফতি আলী হাসান উসামা আহ্বান জানিয়েছেন, বাতিলের সঙ্গে কোনো প্রকার আপস না করে সততা, নৈতিকতা ও ইসলামি মূল্যবোধের প্রশ্নে অবিচল থাকতে হবে। সোমবার রাতে আয়োজিত এই মাহফিলে তিনি ইসলামের শাশ্বত আদর্শ প্রচার এবং জুলুমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার গুরুত্বারোপ করেন।
মুফতি আলী হাসান উসামা বলেন, শহীদ হওয়ার অর্থ হলো মহান রবের সন্তুষ্টির জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করা। তিনি আরও যোগ করেন, জীবনের যেকোনো প্রতিকূলতা বা জুলুম-নির্যাতনের মুখে আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা রেখে ঈমানের সঙ্গে মোকাবিলা করাই মুমিনের কাজ। ইতিহাসের দৃষ্টান্ত টেনে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যারা অন্যায় ও অত্যাচারের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চায়, তাদের পরিণতি কখনোই শুভ হয় না এবং ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে জালিমের পতন অনিবার্য।
বর্তমান রাজনীতি ও নেতৃত্বের আদর্শ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, পদ-পদবি কিংবা প্রলোভনের চেয়ে নীতি-আদর্শ ও ন্যায়বিচার অধিক গুরুত্বপূর্ণ। নবী কারিম (সা.)-এর জীবনের সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সত্যের পথে অটল থাকতে হলে সব ধরনের পার্থিব লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠতে হবে। পাশাপাশি তিনি রাজনীতিতে চলমান দ্বৈতনীতির সমালোচনা করে বলেন, অপরাধের ক্ষেত্রে বিচারহীনতা বা বৈষম্য ইসলামি ন্যায়বিচারের পরিপন্থি, যা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফের গুরুত্ব নিয়ে তিনি বলেন, সামাজিক বাধ্যবাধকতা বা বাহ্যিক চাপের ঊর্ধ্বে উঠে একান্তই আল্লাহর নৈকট্য ও আত্মশুদ্ধি অর্জনের নিয়তে ইবাদত সম্পন্ন করা জরুরি। এছাড়া মানবজাতির হেদায়েতের জন্য কোরআন ও সুন্নাহর পথই যে সর্বোত্তম ও চিরন্তন, সে বিষয়টিও তিনি উপস্থিত শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, মুসলিমপ্রধান দেশে ইসলামের আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য আগে প্রতিটি ব্যক্তির নিজের চরিত্র, নৈতিকতা ও তাকওয়ার সংশোধন প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে মাদরাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। মাহফিলের শেষ পর্যায়ে মাসব্যাপী আয়োজিত সীরাত ফেস্টের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার ও পাগড়ি বিতরণ করা হয়।
