টানা ৪০ দিন মসজিদে নামাজ পড়ে বাইসাইকেল পেল কিশোরগঞ্জের ১৪ শিশু

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের পশ্চিম মসূয়া গ্রামে শিশুদের মসজিদমুখী করতে এবং নিয়মিত জামাতে নামাজ আদায়ে উৎসাহিত করতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন স্থানীয় প্রবাসী ও যুবসমাজ। টানা ৪০ দিন নিয়ম মেনে জামাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের শর্ত পূরণ করায় ১৪ জন শিশুকে পুরস্কার হিসেবে নতুন বাইসাইকেল প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া, সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে আরও পাঁচ শিশুকে দেওয়া হয়েছে টেবিল লাইট। শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) বিকেলে পশ্চিম মসূয়া বায়তুল আকসা জামে মসজিদে আয়োজিত এক আনন্দঘন অনুষ্ঠানে ১০ থেকে ১২ বছর বয়সী বিজয়ীদের হাতে এসব পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। শিশুদের এই অর্জনে পুরো এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

শিমুহা আব্দুল মাজিদ দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আশরাফুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মসূয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ও নূর হুসাইল আলিম মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক মাওলানা আমিনুল ইসলাম। বায়তুল আকসা জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা তানযীল আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মসূয়া উমর বিন খাত্তাব (রা.) জামে মসজিদের খতিব মাওলানা জহিরুল ইসলাম তিতাস, আছিমুন্নেছা ইসলামিক শিক্ষা ইনস্টিটিউট সালাফিয়্যাহ কওমি মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা রাকিবুল হাসান এবং এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রভাষক মো. আল-আমিন হুসাইন। এ সময় এলাকার বিশিষ্ট আলেম-ওলামা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

উদ্যোক্তারা জানান, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য কেবল শিশুদের পুরস্কৃত করা নয়, বরং শৈশব থেকেই তাদের মধ্যে নিয়মিত নামাজ আদায়ের অভ্যাস গড়ে তোলা এবং মসজিদের সঙ্গে একটি আত্মিক বন্ধন তৈরি করা। টানা ৪০ দিন জামাতে নামাজ আদায়ের এই চ্যালেঞ্জ শিশুদের মনে ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করার পাশাপাশি নামাজের প্রতি গভীর আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

এলাকাবাসীর মতে, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে শিশুদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে এমন উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। প্রবাসে থেকেও নিজ গ্রামের শিশুদের ধর্মীয় অনুশাসনে উৎসাহিত করতে প্রবাসীদের এই আর্থিক ও মানসিক সহযোগিতা এলাকায় ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। পশ্চিম মসূয়া গ্রামের এই উদ্যোগ জেলার অন্যান্য এলাকার মসজিদগুলোর জন্যও একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

০%
০%
০%
০%