বড়াইগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১২ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর ও তদন্ত কমিটি গঠন

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) মর্মান্তিক এই সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে। খবর পাওয়ার পরপরই হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা হয়। দুর্ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে ১৪ জনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লেও, পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই শেষে ১২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার আনোয়ার হক (৩০), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার শিশু তাছফিয়া (৮), শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার আব্দুস সামাদ ফকির (৭০), জুয়েল (৪০), সালাম মোল্লা (৪৬), কাশেম (৩৫), শাহীন (৩২) ও শহিদুল ইসলাম (৪৫)। এছাড়া ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ট্রাকচালক আবুল কালাম (৫৬), নওগাঁর সান্তাহারের রাসেল আলী (৩৩), ফরিদপুর সদরের হিমেজ জামাদার এবং রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলাকার বাসচালক মো. সোহেল রানা (৪০) এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।

দুর্ঘটনার পর নিহতদের মরদেহ বনপাড়া হাইওয়ে থানায় রাখা হয়। সেখানে স্বজনদের আহাজারিতে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বনপাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন জানান, নিহতদের পরিবারের সদস্যরা থানায় এসে আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের মরদেহ শনাক্ত করেন। এরপর যথাযথ যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা চালায়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।

এদিকে, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং দায় নিরূপণের লক্ষ্যে নাটোর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াতকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিহতের পরিবারদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।

০%
০%
০%
০%