ফৌজদারি তদন্তের ক্ষমতা পাচ্ছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন

ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত এবং এ-সংক্রান্ত আইনি কার্যক্রম পরিচালনার ব্যাপক ক্ষমতা পেতে যাচ্ছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন। দীর্ঘদিনের পুরোনো অধ্যাদেশ সংশোধন করে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার ২৪ আগস্ট সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
১৯৭৯ সালের দ্য আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্সের পরিবর্তে নতুন এই আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এপিবিএনকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে খসড়াটি তৈরি করা হয়েছে এবং জনমতের জন্য তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করা হয়েছে। নতুন আইনে বিদ্যমান অধ্যাদেশটি রহিত করা হলেও অতীতের সব কার্যক্রমের বৈধতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আইনি সুরক্ষাকবচ রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, পুলিশের এই বিশেষায়িত ব্যাটালিয়নটি একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। বাহিনীটির মূল দায়িত্বের মধ্যে থাকবে জননিরাপত্তা বিধান, ভিআইপি ব্যক্তিবর্গের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পাহারা দেওয়া। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ, মাদক চোরাচালান, মানবপাচার এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ম্যান্ডেট দেওয়া হচ্ছে তাদের।
নতুন এই আইনের মাধ্যমে এপিবিএন সদস্যদের ফৌজদারি কার্যবিধি ও দেশের প্রচলিত আইন মেনে অপরাধ তদন্ত এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার আইনি ভিত্তি তৈরি করা হলো। একইসঙ্গে বিশেষ আদালত ও সংক্ষিপ্ত আদালত গঠন এবং বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিও প্রস্তাব করা হয়েছে এই খসড়ায়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদনের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
