Advertisement

সড়কের পাশে ঝুপড়িতে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন বৃদ্ধ দম্পতি

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের জটিয়ারপাড়া-মাহমুদপুর বাজার সড়কের মহিষবাথান এলাকায় এক টুকরো জমির অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন গুতু মন্ডল ও সুন্দরী বেগম দম্পতি। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে সড়কের পাশে টিন ও পলিথিনে মোড়ানো একটি ঝুপড়ি ঘরে তাদের ঠাঁই হয়েছে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ ষাটোর্ধ্ব গুতু মন্ডল দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় শয্যাশায়ী, ফলে সংসারের হাল এখন পুরোপুরি সুন্দরী বেগমের হাতে।

অভাবের তাড়নায় সুন্দরী বেগম প্রতিদিন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ভিক্ষা করে যা পান, তা দিয়েই কোনোমতে জোটে দুজনের অন্ন। বৃষ্টি হলে ঝুপড়ির ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে এবং ঝড়ো হাওয়ায় ঘরটি যেকোনো সময় ভেঙে পড়ার শঙ্কায় দিন কাটে তাদের। দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত এই দম্পতির নিজস্ব কোনো জমিজমা না থাকায় তারা দীর্ঘ সময় অন্যের আশ্রয়ে কাটানোর পর এই ঝুঁকিপূর্ণ ঠিকানায় থিতু হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

গুতু মন্ডলের শারীরিক অসুস্থতা এবং উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জীবনের শেষ বয়সে এসে তারা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। প্রথম পক্ষের সন্তানের থেকেও কোনো সহযোগিতা পান না এই বৃদ্ধ দম্পতি। অভাবের সংসারে দুবেলা খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হয় তাদের, ফলে দুরারোগ্য ব্যাধির ওষুধ কেনার সামর্থ্যটুকুও অবশিষ্ট নেই।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অসহায় এই দম্পতিকে খোলা আকাশের নিচে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে থাকতে দেখা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সরকারি বিভিন্ন আবাসন প্রকল্প ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় তাদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা মনে করছেন, দ্রুত সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে ভিক্ষাবৃত্তি থেকে মুক্তি পেয়ে এই দম্পতি কিছুটা সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন

বিষয়টি অবগত হওয়ার পর উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। কড়ইচড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, দম্পতিটির নিরাপদ আবাসনের বিষয়টি নিয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করবেন। এছাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম খালেক তাদের ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী জানান, অসহায় গুতু মন্ডল ও সুন্দরী বেগমের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নেওয়া হয়েছে এবং অতি দ্রুত তাদের সরকারি সহযোগিতার আওতায় এনে পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

0%
0%
0%
0%