AdvertisementAdvertisement

বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের বেহাল দশা বাড়ছে ঝুঁকি ও জনদুর্ভোগ

টানা কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের বিশাল অংশ জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত ও খানাখন্দ। সড়কটির পিচ ও পাথর উঠে যাওয়ায় কোথাও কোথাও তৈরি হয়েছে বিপজ্জনক ঢেউয়ের মতো উঁচু-নিচু অবস্থা। বিশেষ করে বরিশালের প্রবেশদ্বার গৌরনদী উপজেলা অংশের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

নতুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে গড়িয়ারপাড় হয়ে গৌরনদী উপজেলার ভুরঘাটা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ১৯ কিলোমিটার সড়কের চিত্র এখন অত্যন্ত করুণ। উজিরপুরের সানুহার এলাকা থেকে শুরু করে গৌরনদী ও টরকি বাসস্ট্যান্ডের মধ্যবর্তী অংশে সড়কের মাঝখানে তৈরি হওয়া বড় বড় গর্তে যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগ দায়সারাভাবে ইট দিয়ে গর্ত ভরাটের চেষ্টা করলেও ভারি যানবাহনের চাপে তা দ্রুত কাদায় পরিণত হয়ে দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

সড়কটির বেহাল দশার কারণে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে গর্ত এড়াতে গিয়ে চালকরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছেন, যা প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মহাসড়কের সম্প্রসারিত অংশগুলোও অসমান হওয়ায় গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে, এছাড়া সরু সড়ক ও দুই পাশ কেটে রাখা অংশগুলো ঝুঁকিকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

পরিবহন চালকরা জানিয়েছেন, মহাসড়কের এই জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে প্রতিনিয়ত গাড়ির ইঞ্জিন, টায়ার ও টিউব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক সময় সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালিয়েও গর্তে চাকা আটকে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। পদ্মা সেতু চালুর পর এই রুটটি দেশের অন্যতম ব্যস্ততম সড়কে পরিণত হওয়ায় দ্রুত টেকসই সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী যাত্রী ও পরিবহন মালিকরা।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

সড়ক ও জনপদ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অতিবৃষ্টির কারণে মেরামতের কাজ টেকসই হচ্ছে না। তবে বৃষ্টি কমলেই মহাসড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোতে স্থায়ী ও টেকসই সংস্কারকাজ দ্রুত শুরু করার আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে এবং ঝুঁকি এড়াতে স্থানীয়রা জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন।

0%
0%
0%
0%