দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও ওএমএসের চাল ও আটা মিলছে না ফেনীতে

ফেনী পৌরসভায় প্রয়োজনের তুলনায় খাদ্যপণ্যের বরাদ্দ অপ্রতুল থাকায় এবং দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও ওপেন মার্কেট সেল বা ওএমএস কর্মসূচির চাল ও আটা না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে শত শত নিম্ন আয়ের মানুষকে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন ওএমএস কেন্দ্রে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে, যেখানে ভোর থেকেই স্বল্পমূল্যে খাদ্যপণ্য কেনার জন্য দুস্থ ও শ্রমজীবী মানুষের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে দেশব্যাপী দরিদ্র মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বল্পমূল্যে চাল ও আটা বিক্রির এ কর্মসূচি চালু হয় এবং ২০১০ সালে তা ফেনী পৌরসভায় সম্প্রসারিত হয়। সূচনার সময় পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডের জন্য মাত্র ছয়টি বিক্রয়কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও দীর্ঘ এ সময়ে কেন্দ্রের সংখ্যা একরত্তিও বাড়ানো হয়নি। অথচ ২০১০ সালে ফেনী পৌরসভার জনসংখ্যা ১ লাখ ৯২ হাজার থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে ২ লাখ ৭৮ হাজারে দাঁড়িয়েছে; অর্থাৎ গত দেড় দশকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৪২ শতাংশ। এর পাশাপাশি স্টার লাইন গ্রুপ, আবুল খায়ের ম্যাচ ফ্যাক্টরি ও কোয়ালিটি জুটমিলসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের হাজারো শ্রমিকও এসব কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।

খাদ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পার্শ্ববর্তী জেলা কুমিল্লায় ওএমএস বিক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়িয়ে ৩২টিতে উন্নীত করা হলেও ফেনীতে কেন্দ্র সংখ্যা সেই ছয়টিতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। এছাড়া নোয়াখালীতে ১৭টি, চাঁদপুরে ১৫টি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১২টি কেন্দ্র চালু রয়েছে। অন্য জেলাগুলোর তুলনায় ফেনীতে কেন্দ্র ও বরাদ্দ উভয়ই কম থাকায় স্থানীয় চাহিদার সিকিভাগও মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। ফেনী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ওএমএস ডিলার মো. আকবর হোসেন জানান, তিনি সপ্তাহে মাত্র দুই থেকে তিন দিন পণ্য বরাদ্দ পান এবং প্রতিবার ৭৫০ কেজি চাল ও ৭৫০ কেজি আটা দেওয়া হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় বিক্রি শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত চললেও অপর্যাপ্ত বরাদ্দের কারণে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক মানুষকে শেষ পর্যন্ত খালি হাতেই ফিরে যেতে হয়।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আলাউদ্দিন ঢালী জানান, ফেনী পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডের মাত্র ছয়টি কেন্দ্র দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এক ওয়ার্ডের কার্যক্রম শেষ করে পালাক্রমে অন্য ওয়ার্ডে পণ্য সরবরাহ করতে হয়। এছাড়া দেশের অন্যান্য জেলায় প্রতিদিন ট্রাকে করে তিন টন চাল ও আটা বিক্রির বরাদ্দ থাকলেও ফেনীতে সেই সুবিধা নেই। এ বিষয়ে বিক্রয়কেন্দ্র ও বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি ট্রাকে করে পণ্য বিক্রির দাবি জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার অবহিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

জেলা ওএমএস কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম বলেন, ফেনীতে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে এবং আশপাশের জেলা থেকেও বহু মানুষ এখানে কাজের সন্ধানে আসেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও ওএমএসের অবকাঠামো ও বরাদ্দ না বাড়ানো অত্যন্ত হতাশাজনক উল্লেখ করে তিনি দ্রুত এই সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন।

০%
০%
০%
০%