কুমিল্লার বরুড়া পৌরসভার নয়নতলা, পাঠানপাড়া ও ডেওয়াতলিসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল থেকে একটি পাগলা কুকুরের আকস্মিক হামলায় শিশু ও বয়স্কসহ অন্তত ২৫ জন সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। আকস্মিক এই ঘটনায় পুরো পৌর এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালের দিকে একটি ক্ষিপ্ত কুকুর আকস্মিকভাবে পথচারী ও ঘর থেকে বের হওয়া লোকজনের ওপর চড়াও হয়। মুহূর্তের মধ্যে পৌরসভার বিভিন্ন পয়েন্টে অন্তত ২৫ জনকে কামড়ে ও আঁচড়ে জখম করে ওই কুকুরটি। হঠাৎ করে এত সংখ্যক রোগী কুকুরের কামড়ের শিকার হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে আসায় জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসকদেরও মারাত্মক হিমশিম খেতে হয়।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। তারা হলেন—বরুড়া এলাকার ফারহানা (৩৫), মনু মিয়া (৭২), তাঁর ছেলে ইকবাল (২৮), তানিয়া (৪৮) এবং ফাহিমা (৩০)। গুরুতর আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছানোর পর তাঁদের অনেককে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ জখমের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়। একই এলাকায় পরপর এত মানুষ কুকুরের হিংস্র আক্রমণের শিকার হওয়ায় বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় অভিভাবক ও বাসিন্দারা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজা সারোয়ার জানান, মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় ২২ থেকে ২৫ জন ব্যক্তি কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। এগুলো পাগলা কুকুরের আক্রমণ হওয়ায় পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সময়ে কীভাবে এত মানুষ একসঙ্গে এই আক্রমণের শিকার হলেন, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জনসাধারণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পাগলা কুকুরের উপদ্রব থেকে রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা।