সিরাজগঞ্জে রামদার কোপে যুবকের হাত বিচ্ছিন্ন

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে পূর্বশত্রুতার জেরে মো. সবুজ ওরফে দুল্লাহ (৩০) নামের এক যুবকের ওপর রামদা দিয়ে নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের প্রামাণিক পাড়া মাজারের সামনে রাজুর বাড়ির কাছে এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। হামলায় যুবকের একটি হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং মাথায় গুরুতর জখম হয়েছে। আহত সবুজ ওই এলাকার মো. দেলবারের ছেলে এবং পেশায় একজন ভাঙারি ব্যবসায়ী। অভিযুক্ত মো. রাজু একই এলাকার মো. শাহিনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন সবুজ। পথিমধ্যে রাজুর বাড়ির সামনে পৌঁছালে অতর্কিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়। রামদার এলোপাতাড়ি কোপে সবুজের একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি মাথায় গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে সিরাজগঞ্জের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করেন।

এদিকে পৈশাচিক এই হামলার পর অভিযুক্ত রাজু রক্তমাখা রামদা হাতে পুরো বাজার এলাকায় উন্মত্তের মতো ঘোরাঘুরি করতে থাকেন। স্থানীয় লোকজন তাকে থামানোর চেষ্টা করলে একপর্যায়ে তিনি নিজেই নিজের গলার দিকে রামদার আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হলে তাকেও চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জের একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত রাজু দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।

ঘটনার বিষয়ে আহত সবুজের বাবা মো. দেলবার আহাজারি করে বলেন, আমার ছেলে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিল। সে কোনো খারাপ কিছুর সঙ্গে জড়িত নয়। পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর অতর্কিত এই হামলা চালানো হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে আমার ছেলের জীবন এখন সংকটাপন্ন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে। এই নৃশংস ঘটনার পর অভিযুক্ত রাজুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি, ফলে তাদের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে কামারখন্দ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাশমত আলী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে এমন পৈশাচিক হামলার ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।

০%
০%
০%
০%