লাউয়াছড়ায় পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়

শারদীয় দুর্গাপূজার টানা ছুটির সুযোগে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ জেলার প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) ও বুধবার (২ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারি ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ভ্রমণপিপাসু প্রকৃতির টানে মৌলভীবাজারে ছুটে এসেছেন। চা-বাগান, পাহাড় আর বনাঞ্চলে ঘেরা এই জনপদে পর্যটকদের এই স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো জেলা।

চা-বাগান ও বনের সবুজ ছায়ায় ঘেরা মৌলভীবাজারে প্রতি বছর ছুটির দিনগুলোতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের পদচারণা ঘটে, আর এবারের পূজার ছুটিতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। জেলার সাতটি উপজেলায় কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক মিলিয়ে শতাধিক ছোট-বড় দর্শনীয় স্থান রয়েছে। দীর্ঘ দিন পর ছুটির আনন্দ উপভোগ করতে পর্যটকেরা পরিবার নিয়ে এসব কেন্দ্রে ভিড় জমিয়েছেন। এর পাশাপাশি শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত প্রায় দুই শতাধিক দৃষ্টিনন্দন রিসোর্ট দেখতেও পর্যটকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। কেউ ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে, আবার কেউ দলবেঁধে মোটরসাইকেলে পুরো জেলা ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তবে ভ্রমণমুখী এই মানুষের অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে শ্রীমঙ্গল শহরজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে পর্যটকদের কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

পর্যটন জেলা মৌলভীবাজারের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ছাড়াও মাধবপুর লেক, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতি কমপ্লেক্স, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, বাইক্কা বিল, বধ্যভূমি, ডিনস্টন সিমেট্রি, হামহাম জলপ্রপাত, মনিপুরী পল্লি, হাকালুকি হাওর, মনু ব্যারেজ, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই), উুঁচু-নিচু সবুজ চা-বাগান, চা-কন্যা ভাস্কর্য, নীলকণ্ঠ টি কেবিন এবং সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানায় পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে দুর্লভ প্রজাতির ৪৬০ ধরনের উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রজাতির উভচর, ৬ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি এবং ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে। জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এই বনাঞ্চলকে ১৯৯৬ সালে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

ঈদুল আজহার দীর্ঘ চার মাস পর পূজার এই ছুটিতে জেলায় পর্যটকদের এমন উপস্থিতি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। স্থানীয় পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, জেলায় প্রায় ১০ হাজার পরিবার এই খাতের ওপর নির্ভরশীল এবং পর্যটন ব্যবসা ভালো না চললে এসব পরিবারের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে এবারের ছুটিতে কমবেশি পর্যটক আসায় এবং তারা স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়ানোয় ব্যবসায়ীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা আবিদ চৌধুরী জানান, এক বছর পর আবার মৌলভীবাজারে এসেছেন এবং এখানকার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যি অসাধারণ। তবে এক পর্যটন কেন্দ্র থেকে অন্য পর্যটন কেন্দ্রে যাওয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা কিছুটা নাজুক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। টুরিস্ট পুলিশের শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে প্রচুর পর্যটক সমাগম ঘটেছে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবসময় তৎপর রয়েছে।

০%
০%
০%
০%