Advertisement

শ্রীমঙ্গলের ভুরভুরিয়া ছড়ার তীরে কাশফুলের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগে পর্যটকদের ভিড়

ভাদ্র ও আশ্বিন মাসের সন্ধিক্ষণে শরতের স্নিগ্ধতায় সেজেছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল। নীল আকাশ আর শুভ্র মেঘের ভেলায় চড়ে আসা শরৎ ঋতুর আগমনে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত এখন সাদা কাশফুলের সমারোহে মুখর। বিশেষ করে শ্রীমঙ্গল শহর থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট সংলগ্ন ভুরভুরিয়া ছড়ার দুই পাড়ে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা বিশাল কাশবন প্রকৃতিপ্রেমীদের হৃদয়ে দোলা দিচ্ছে।

ভুরভুরিয়া ছড়ার পাড় ঘেঁষে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ফুটে থাকা কাশফুলের এই মেলা যেন সবুজের বুকে সাদা রঙের আলপনা। চা-বাগানের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া এই ছড়ার দুপাশ বাতাসে দোল খাওয়া শুভ্র কাশফুলের মায়াবী আভায় এক অপরূপ রূপ ধারণ করেছে। ছুটির দিনগুলোতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি ঢাকা থেকে আগত পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠছে এই এলাকা।

বিজ্ঞাপন

কাশবনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায় প্রতিটি বিকেলে। কেউ আপনজনদের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন কাশবনের ভেতর, আবার কেউবা ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দি করছেন শরতের এই নান্দনিক দৃশ্য। ঢাকা থেকে আগত দর্শনার্থী জাকিয়া তাসনিম বলেন, প্রকৃতির এই অকৃত্রিম সৌন্দর্য উপভোগ করতেই তাদের শ্রীমঙ্গলে আসা। স্থানীয় ট্যুর গাইড শ্যামল দেব বর্মা জানান, শরতের এই কাশবন এখন শ্রীমঙ্গলের পর্যটন আকর্ষণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মতে, কাশফুল বা ‘স্যাকারাম স্পনটেনিয়াম’ এক ধরনের বহুবর্ষজীবী ঘাসজাতীয় উদ্ভিদ, যা সাধারণত নদী বা ছড়ার তীরে প্রাকৃতিকভাবেই বেড়ে ওঠে। আগস্টের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এই শুভ্রতার রাজত্ব অটুট থাকে। তবে দর্শনার্থীদের অসচেতনতায় অনেক সময় কাশবনের ক্ষতি হচ্ছে বলে স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন।

বিজ্ঞাপন

প্রকৃতির এই নান্দনিক ভারসাম্য রক্ষায় এবং দীর্ঘ সময় সৌন্দর্যের আমেজ ধরে রাখতে দর্শনার্থীদের প্রতি ফুল না ছেঁড়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল। কাশফুল ছিঁড়ে পরিবেশের সৌন্দর্য নষ্ট না করে কেবল প্রকৃতি দর্শনের মাধ্যমে শরতের এই আশীর্বাদকে উপভোগ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয় প্রকৃতিপ্রেমীরা।

0%
0%
0%
0%