বলিউডের চিরসবুজ তারকা কাজল মুখার্জি মানেই উৎসবের মরসুমে এক অন্যরকম উন্মাদনা, আর দুর্গাপুজো মানেই তো তাঁর কাছে পরিবারকে আঁকড়ে ধরার আবেগময় কিছু মুহূর্ত। প্রতি বছরের মতো এবারও ববির সোমবার, অর্থাৎ মহা অষ্টমীর দিন নর্থ বম্বে সর্বজনীন দুর্গাপুজোর ঐতিহ্যমণ্ডিত মণ্ডপে সপরিবারে হাজির হয়ে সমস্ত আলো নিজের দিকে কেড়ে নিলেন এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী। বলিপাড়ায় অত্যন্ত পরিচিত ও মর্যাদাপূর্ণ এই ‘মুখার্জি বাড়ির পুজোয়’ কাজলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর জীবনের সবচেয়ে কাছের মানুষেরা, যাঁদের নিয়ে তৈরি হয়েছে এই বিশেষ উৎসবের চেনা আবহ।
মণ্ডপের সেই সোনালী মুহূর্তগুলোকে ফ্রেমবন্দী করে নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলে ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেত্রী। ছবিগুলোর ক্যাপশনে দেবী দুর্গার নানা রূপের মহিমা বর্ণনা করে কাজল লিখেছেন, আজকের দিনটা ছিল মায়ের সমস্ত রূপকে ঘিরে—মা হিসেবে, মেয়ে হিসেবে, রক্ষাকর্ত্রী হিসেবে এবং দেবী হিসেবে! জয় মা দুর্গা। আর এই আবেগঘন বার্তার সঙ্গেই শুরু হয়ে গেছে সেই চেনা উৎসবের উন্মাদনা, যা মণ্ডপের প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে পড়েছিল।
সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা সেই নজরকাড়া ছবিগুলোতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একান্তে হাসিমুখে পোজ দিতে দেখা গিয়েছে কাজলকে। প্রবাল-লাল এবং উজ্জ্বল গোলাপি রঙের একটি ঐতিহ্যবাহী শাড়িতে এদিন যেন পূজার আলো আরও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন কাজল নিজে। তাঁর পাশেই নীল ও গোলাপি রঙের চমৎকার ফুলের নকশা করা শাড়িতে মোহময়ী লুকে উপস্থিত ছিলেন তাঁর বোন তানিশা মুখোপাধ্যায়। এছাড়া পরিবারের সঙ্গে উপস্থিত থেকে মণ্ডপের শোভা বর্ধন করেছেন কাজলের প্রবীণ মা তথা কিংবদন্তি অভিনেত্রী তনুজা, যাঁকে একটি হালকা বেগুনি রঙের ছাপা শাড়ি এবং কাঁধে শাল জড়ানো বেশ স্নিগ্ধ রূপে দেখা গেছে।
পরিবারের এই আনন্দ আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন কাজলের তুতো ভাই তথা প্রতিভাবান পরিচালক অয়ন মুখোপাধ্যায়, যিনি সেজেছিলেন এক পবিত্রময় সাদা কুর্তায়। অন্যদিকে, পরিবারের অন্য সদস্যা শর্বাণী মুখোপাধ্যায়কে দেখা গেছে একটি উজ্জ্বল গোলাপি পোশাক এবং সোনালী কাজের ওড়নায়। কাজলের কাছে দুর্গাপুজো কেবলই একটি উৎসব নয়, বরং এটি শিকড়ের টানে পরিবারের সঙ্গে মিলিত হওয়ার এক পরম উপলক্ষ। কাজের কথা বলতে গেলে, সম্প্রতি বড় পর্দায় মুক্তি পেয়েছে তাঁর নতুন হরর চলচ্চিত্র ‘মা’, এবং এর আগে ২০২৫ সালে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছিল তাঁর প্রশংসিত ছবি ‘সরজমিন’।
তবে এবারের এই উৎসবের আনন্দ কিছুটা হলেও ম্লান হয়েছে এক গভীর শোকে। চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর প্রয়াত হন মুখার্জি পরিবারের অত্যন্ত প্রিয় মানুষ এবং রানির মা কৃষ্ণা মুখোপাধ্যায়, যিনি এই ঐতিহ্যবাহী পুজোর অন্যতম প্রাণস্বরূপা ছিলেন। তবুও গভীর শোকের ছায়ার মাঝেই পারিবারিক ও ঐতিহ্যগত ধারাকে অক্ষুণ্ণ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় মুখার্জি পরিবার, যা প্রমাণ করে প্রিয়জন হারানোর বেদনা সত্ত্বেও জীবনের উদ্যাপন থামে না।