Advertisement

কনসার্ট বাতিল ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা নিয়ে ক্ষুব্ধ সংগীতশিল্পীরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জে পরপর দুটি কনসার্ট বাতিলের ঘটনা দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শঙ্কার কালো মেঘ ঘনিয়ে তুলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা কেবল শিল্পী বা আয়োজকদের নয়, বরং পুরো সংগীতপ্রেমী জনগোষ্ঠীর মনে তীব্র হতাশার জন্ম দিয়েছে। একে একে কনসার্টগুলো বাতিলের মধ্য দিয়ে সংস্কৃতির অবাধ চর্চার পথে যে দেওয়াল তৈরি হচ্ছে, তাতে উদ্বিগ্ন দেশের সংগীতশিল্পী ও সুরকাররা।

সংগীতশিল্পীরা মনে করছেন, সংগীত ও সংস্কৃতি জাতির পরিচয় এবং মননের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মতো সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জেলায় উচ্চ শব্দের অজুহাতে অনুষ্ঠান বন্ধ করার ঘটনাটি অযৌক্তিক এবং সংজ্ঞাহীন। শিল্পীদের মতে, শব্দমাত্রা নিয়ে আপত্তি থাকলে তা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ ছিল, কিন্তু সরাসরি কনসার্ট বাতিল করে দেওয়া কোনো সমাধান হতে পারে না। এই প্রবণতা কেবল শিল্পচর্চাকেই বাধাগ্রস্ত করছে না, বরং যন্ত্রশিল্পী ও আয়োজকদের ওপরও চরম আর্থিক ও পেশাদারী আঘাত হানছে।

বিজ্ঞাপন

সাংস্কৃতিক মহলের অভিযোগ, কিছু উগ্রপন্থী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে ঘৃণা ছড়িয়ে সংস্কৃতি ও রাজনীতির মধ্যে থাকা সুন্দর সমন্বয়কে নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে এবং সংস্কৃতির প্রশ্নে সবাইকে এক কাতারে আসা জরুরি। প্রশাসন যদি কোনো গোষ্ঠীর অযৌক্তিক আপত্তির কাছে নতি স্বীকার করে অনুষ্ঠান বাতিল করে দেয়, তবে তা ভবিষ্যতে উগ্রবাদীদের আরও প্রশ্রয় দেবে। এটি রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার পরিচায়ক বলেও মনে করছেন অনেকে।

শিল্পীদের স্পষ্ট দাবি, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া প্রয়োজন যে, দেশের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে কেউ কোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটাতে পারবে না। কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলে তারা বলেছেন, পুলিশ বা প্রশাসনের দায়িত্ব কেবল আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা নয়, বরং শিল্পী ও দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সাংস্কৃতিক আয়োজন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা।

বিজ্ঞাপন

দেশের অধিকাংশ মানুষ সংগীতের অনুরাগী। তাই এই গানবাজনা বা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার মতো কোনো পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারের প্রতি শিল্পীদের আহ্বান—সাংস্কৃতিক বলয়টিকে সুরক্ষিত রাখতে হবে এবং শিল্পীদের পেশাগত অনিশ্চয়তা দূর করতে হবে। কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তির ব্যক্তিগত অপছন্দের কাছে রাষ্ট্র ও প্রশাসন হার মানলে তা দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। সুস্থ, সুন্দর ও স্বচ্ছ সাংস্কৃতিক পরিবেশ নিশ্চিত করাই হোক আগামীর পথচলা।

0%
0%
0%
0%