AdvertisementAdvertisement

রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞার মাঝে ভালোবাসার খোঁজে ওয়ান নাইট অনলি বিতর্ক ও রোমান্সের মিশেল

এমন এক পৃথিবী, যেখানে প্রেম করা বৈধ হলেও বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ। তবে সেই কঠোর নিয়ম ভাঙার সুযোগ মেলে বছরে মাত্র ১২ ঘণ্টার জন্য—একটি নির্দিষ্ট রাতে সরকার অনুমতি দেয় আইনি বাধা ছাড়াই মানুষ নিজের কামনা মেটাতে পারবে। কল্পনাশ্রয়ী এই ডিস্টোপিয়ান পটভূমিতে রোমান্টিক কমেডির মোড়কে পরিচালক উইল গ্লাক পর্দায় এনেছেন তাঁর নতুন সিনেমা ‘ওয়ান নাইট অনলি’। গত ৭ আগস্ট মুক্তির পর থেকেই সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সিনেমাটির গল্পে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে এক অদ্ভুত আইন বলবৎ হয়েছে। বিয়ের আগে যৌন মিলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে বছরে একটি রাত ‘ন্যাশনাল সেক্স নাইট’ হিসেবে পালিত হয়। এই রাতে প্রত্যেকের শরীরে থাকা অত্যাধুনিক বায়োসেন্সর বা ট্র্যাকিং ডিভাইস সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়, যা শরীরের রাসায়নিক পরিবর্তন শনাক্ত করে। নিয়ম ভাঙলে অপেক্ষা করে কঠোর শাস্তি। এই এক অদ্ভুত আবহে পুরো শহর মেতে ওঠে ক্ষণিকের স্বাধীনতার উৎসবে। ডেটিং অ্যাপ, রেস্তোরাঁ আর বারগুলো হয়ে ওঠে কানায় কানায় পূর্ণ।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

গল্পের মূল কেন্দ্রে ওভেন ও অ্যালি। ম্যানহাটনের এক পিৎজারিয়ার মালিক ওভেন শান্ত ও সাদাসিধে মানুষ, যার দীর্ঘদিনের প্রেমিকা মালিকা এই বিশেষ রাতে অন্য কারও সঙ্গে সময় কাটানোর সিদ্ধান্ত নিলে ওভেনের পৃথিবী তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। অন্যদিকে গায়িকা হওয়ার স্বপ্ন দেখা অ্যালিও তার সঙ্গীর বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়। ভাগ্যের পরিহাসে একা হয়ে যাওয়া ওভেন ও অ্যালির নিউইয়র্কের ব্যস্ত রাস্তায় বারবার দেখা হতে থাকে। তাদের সেই তিক্ততা থেকে শুরু হওয়া সম্পর্কের রসায়নই সিনেমার মূল চালিকাশক্তি।

ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ক্যালাম টার্নার ও মনিকা বারবারো। ওভেনের চরিত্রে ক্যালামের আন্তরিকতা এবং অ্যালির চরিত্রে মনিকার প্রাণবন্ত ও সংবেদনশীল অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। নিউইয়র্ক শহর কেবল প্রেক্ষাপট নয়, বরং গল্পের একটি জীবন্ত চরিত্র হিসেবে উঠে এসেছে সাবওয়ে, ব্রুকলিন ব্রিজ ও অলিগলি ঘুরে বেড়ানো এই গল্পে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তবে সিনেমার হাস্যরস ও রোমান্টিক আবহের আড়ালে উঠে এসেছে গুরুতর রাজনৈতিক প্রশ্ন। রাষ্ট্র কি মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে? এটি কি আধুনিক রাজনীতির নিষ্ক্রিয়তার ব্যঙ্গ, নাকি রক্ষণশীলতার জয়গান? ব্রিটিশ দৈনিক ‘দ্য গার্ডিয়ান’ সিনেমাটির কঠোর সমালোচনা করে বলেছে, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের এমন ভয়াবহ ধারণাকে কেবল হালকা বিনোদন হিসেবে উপস্থাপন করাটা হতাশাজনক। প্রজনন অধিকার ও ব্যক্তিস্বাধীনতা নিয়ে বর্তমান বিশ্ব যখন উত্তাল, তখন এমন একটি গল্পে রাজনৈতিক গভীরতার অভাব দর্শককে অস্বস্তিতে ফেলে।

সমালোচকদের একাংশ মনে করেন, নির্মাতারা হয়তো কোনো রাজনৈতিক বার্তাই দিতে চাননি, যা সিনেমার মূল ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আবার অনেকের মতে, এটি অসম্ভব এক পরিস্থিতির মধ্যে দুই মানুষের মানবিক সম্পর্কের চমৎকার প্রতিফলন। সব বিতর্ক সরিয়ে রাখলে, ওভেন আর অ্যালির এই ভালোবাসার গল্প দর্শকদের বারবার ভাবতে বাধ্য করে—আইন কি কখনো মানুষের অনুভূতির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে? ‘ওয়ান নাইট অনলি’ মুক্তি পেয়েছে, আর সময়ের সাথে সাথে এই সিনেমা ঘিরে তর্কের পারদ যে আরও চড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

0%
0%
0%
0%