ছোটপর্দার জনপ্রিয় মুখ ও প্রতিভাবান অভিনেতা অনুজ ঠাকুর-এর অকালপ্রয়াণে শোকের মাতম চলছে বিনোদন দুনিয়ায়। মাত্র ৩৩ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই হাসিখুশি তারকা। ২৭ অক্টোবর ভোরবেলা ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্তব্ধ তাঁর সহকর্মী ও অনুরাগীরা। জীবনের বহু স্বপ্ন এবং আগামীদিনের রঙিন পরিকল্পনাগুলোকে সঙ্গী করেই চিরতরে ঘুমিয়ে পড়েছেন এই অভিনেতা, যা মেনে নিতে পারছেন না তাঁর কাছের মানুষেরা।
অভিনেতার মৃত্যুর পর তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও কাস্টিং ডিরেক্টর রূপেশ সোনার সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে এক হৃদয়বিদারক তথ্য। তিনি জানান, মা ও ভাইকে নিয়ে নিউ ইয়র্কে অবকাশ যাপনের সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন অনুজ। ভ্রমণের বিমান টিকিট কাটা এবং ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছিল। কেবল নির্ধারিত ফ্লাইটে চড়ার অপেক্ষা ছিল, কিন্তু সেই আনন্দঘন যাত্রার আগেই নিয়তির নির্মম পরিহাসে সব ওলটপালট হয়ে গেল।
ঘটনার দিন অর্থাৎ ২৭ অক্টোবর ভোর সাড়ে চারটেয় অনুজের প্রতিদিনের মতো শরীরচর্চা ও দৌড়ানোর জন্য অ্যালার্ম বেজে উঠেছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে তাঁর সাড়াশ শব্দ না পেয়ে মায়ের মনে সন্দেহ জাগে। তিনি ঘরে গিয়ে দেখেন অনুজ আর বেঁচে নেই। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, ঘুমের মধ্যেই আকস্মিক খিঁচুনি ওঠার কারণেই এই ট্র্যাজেডির সৃষ্টি হয়েছে। জীবনরসিক অনুজ ৩০ জুলাই দক্ষিণ আফ্রিকা ভ্রমণের কিছু রোমাঞ্চকর মুহূর্ত ইনস্টাগ্রামে ভাগ করে নিয়েছিলেন, যা আজ তাঁর ভক্তদের হৃদয়ে কেবলই শূন্যতা আর স্মৃতির অশ্রু জাগায়।
‘ধুম মাচাও ধুম’, ‘বন্ধন সাত জনমে কা’, ‘বিন্দ বানুঙ্গা ঘোড়ি চড়ুঙ্গা’ এবং ‘মহিসাগর’-এর মতো জনপ্রিয় সব ধারাবাহিকে দুর্দান্ত অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন অনুজ ঠাকুর। সম্ভাবনাময় এই তারকার আকস্মিক প্রয়াণ টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করল। এর আগে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অভিনেতা সিদ্ধার্থ শুক্লার untimely demise বা আকস্মিক মৃত্যুর কথা মনে করিয়ে দিয়ে অনুরাগীরা আবারও ভাবছেন, জীবন কতটা অনিশ্চিত ও ক্ষণস্থায়ী।