ভদ্রকালীর সিঁদুরে রাঙা সিঁথি কেন আজও রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের মস্তকে

সিনেমা ও রাজনীতির আঙিনায় দীর্ঘ পথচলায় রূপা গঙ্গোপাধ্যায় বরাবরই এক স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্বের নাম। অভিনয় জগত থেকে বহু আগেই দূরে সরে গেলেও তাঁর প্রতিটি প্রকাশ নিয়ে ভক্তদের কৌতূহলের অন্ত নেই। বিশেষ করে জনসমক্ষে আসার পর তাঁর সিঁথির সিঁদুর নিয়ে দর্শকদের মনে নানা প্রশ্ন জাগে। বহু বছর আগে বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি ঘটা সত্ত্বেও রূপা কেন নিয়ম ভেঙে সিঁথিতে সিঁদুর পরেন, সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই রহস্যের জট নিজেই খুলেছেন এই তারকা।

ওই সাক্ষাৎকারে নিজের চেনা ছকে বাঁধাধরা নিয়মের বিরুদ্ধে গিয়ে রূপা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে তিনি কোনো বিধবা নারী নন, তাই সিঁদুর পরতে তাঁর কোনো বাধা নেই। এমনকি তিনি যদি বিধবাও হতেন, তবুও এই ঐতিহ্য বজায় রাখতেন বলে জানান। তাঁর সিঁথিতে থাকা সিঁদুরটি কোনো মানুষের নামে নয়, বরং তা মা ভদ্রকালীর চরণের সিঁদুর। নিজের ভালোলাগা এবং বিশ্বাসের জায়গা থেকেই তিনি কপাল ও সিঁথিতে এই সিঁদুর ধারণ করেন এবং এর জন্য কাউকে কোনো কৈফিয়ত দিতে তিনি নারাজ। পাশাপাশি, সমাজের গতানুগতিক প্রথার বিরোধিতা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, বিধবা হলেই কেন নারীরা সিঁদুর বা লাল টিপ পরতে পারবেন না? নিজের জীবনেও তিনি প্রয়াত বাবার মৃত্যুর পর মাকে জোর করে লাল টিপ পরাতেন বলে জানান।

১৯৯২ সালের একটি রবিবারে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ধ্রুব মুখোপাধ্যায়কে ভালোবেসে ঘর বেঁধেছিলেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। কিন্তু সেই দাম্পত্য সুখের হয়নি। একসময়ে কলকাতার বুকে সংসার টিকিয়ে রাখতে অভিনয় পর্যন্ত ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু স্বামীর মন জয় করতে এবং সংসার বাঁচাতে শত চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা হয়নি। সেলিব্রেটি স্ত্রীকে মেনে নেওয়ার ক্ষেত্রে একজন পুরুষের মানসিকতার সংকীর্ণতার কথা উল্লেখ করে তিনি অতীতে নিজের ভাঙা সংসারের আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন। বিবাহবিচ্ছেদের সেই দুঃসময়ে চরম মানসিক অবসাদে ভুগেছিলেন তিনি, যা তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকে এক অন্ধকার পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল।

প্রথম দফার বৈবাহিক জীবনের তিক্ততা কাটিয়ে পরবর্তীতে গায়ক দিব্যেন্দু মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন রূপা। বয়সে তেরো বছরের ছোট দিব্যেন্দুর সঙ্গে মুম্বইয়ের ফ্ল্যাটে প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর লিভ ইন সম্পর্কে থাকার পর সেই সম্পর্কেরও অবসান ঘটে। ব্যক্তিগত জীবনের এই চড়াই-উতরাই, ডিভোর্স এবং সম্পর্কের ব্যর্থতা পেরিয়ে রূপা গঙ্গোপাধ্যায় আজ এক লড়াকু নারী। সমস্ত সামাজিক প্রথার দেয়াল ভেঙে নিজের শর্তে বাঁচা এবং আত্মবিশ্বাসী এক আইকনিক চরিত্র হিসেবেই তিনি অনুরাগীদের হৃদয়ে আজীবন উজ্জ্বল হয়ে থাকবেন।

০%
০%
০%
০%