রাজনীতির কাদা ছোড়াছুড়ির ঊর্ধ্বে একজন শিল্পীর বড় পরিচয় কেবলই তিনি শিল্পী। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অস্থির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও শিল্পী সমাজের অনিশ্চয়তার কথা মাথায় রেখে এমনটাই মনে করছেন অভিনয়শিল্পী সংঘের সভাপতি ও বরেণ্য অভিনেতা আজাদ আবুল কালাম। মঙ্গলবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত অভিনয়শিল্পী সংঘের কার্যনির্বাহী পর্ষদের এক বছর পূর্তি ও সংগঠনটির নতুন ওয়েবসাইট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি শিল্পীদের ঐক্যের ডাক দেন।
আজাদ আবুল কালাম স্পষ্ট করেন যে, কোনো সহকর্মী রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে প্রতিকূল পরিস্থিতির শিকার হলে বা কারাবন্দী হলেও শিল্পী হিসেবে তাদের পাশে দাঁড়ানোই হবে সংগঠনের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, পেশাগত পরিচয় বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার চেয়ে মানবিক সম্পর্ক এবং সহমর্মিতাই বড়। একজন শিল্পী হিসেবে অন্যের দুঃখ-কষ্ট ভাগাভাগি করে নেওয়া এবং বিপদে একে অপরের হাত শক্ত করে ধরাই এখনকার সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। বড় পর্দা, ছোট পর্দা কিংবা অনলাইন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর—বিভাজন ভুলে সবাইকে একই ছায়াতলে আসার আহ্বান জানান তিনি।
পেশাগত স্বীকৃতির অভাব নিয়েও নিজের ক্ষোভ উগরে দেন এই অভিনেতা। তিনি বলেন, ব্যাংকিং সেবা বা পাসপোর্ট তৈরির মতো সাধারণ জায়গায় নিজেদের পেশার সঠিক স্বীকৃতি মেলে না। অভিনয়শিল্পীরা আজও রাষ্ট্রীয়ভাবে পেশাগত স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। বর্তমানে অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে বেকারত্বের হার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। মাত্র আট শতাংশ শিল্পী অভিনয়ের ওপর ভরসা করে জীবন নির্বাহ করতে পারছেন, বাকিদের অবস্থা অত্যন্ত মানবেতর। এই দৈন্যদশা কাটাতে এবং পেশার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় শিল্পীদের সম্মিলিত আন্দোলনের প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও কিংবদন্তি অভিনেত্রী ফেরদৌসী মজুমদার। এছাড়া সংগঠনের উপদেষ্টা মামুনুর রশীদ নতুন ওয়েবসাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অভিনেতা শাহাদাৎ হোসেনের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দিলারা জামান, সারা যাকের, তৌকীর আহমেদ, শহীদুজ্জামান সেলিম, আজিজুল হাকিম, রাশেদ মামুন অপু, রওনক হাসানসহ দেশের শোবিজের একঝাঁক জনপ্রিয় মুখ। সহকর্মীদের নিয়মিত কাজের আকুতি এবং কঠিন বাস্তবতার গল্পে মুখরিত ছিল এই মিলনমেলা, যা অভিনয়শিল্পী সংঘের আগামী দিনের পথচলায় এক নতুন অঙ্গীকারের বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।