ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার চেঁচরীরামপুর ইউনিয়নের বানাই গ্রামের বাকার খালের পাড়ে পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির অবৈধ কার্যক্রম চলছে। দীর্ঘ দিন ধরে এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়নের তফসেরের খেয়াঘাটের পশ্চিম পাড় থেকে উত্তর দিকে বাকার খালের পাশে প্রায় ৫০টি মাটির চুল্লি স্থাপন করা হয়েছে। এসব চুল্লিতে নিয়মিতভাবে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা উৎপাদন করা হচ্ছে। দিনরাত চিমনি দিয়ে কুণ্ডলী পাকিয়ে বের হওয়া কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে চারপাশের আকাশ ও বাতাস। এর ফলে একদিকে যেমন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামীণ পরিবেশ, অন্যদিকে তীব্র শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল ইসলাম, রাসেল এবং সাবেক ইউপি সদস্য ফারুকের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতায় এই কয়লা তৈরির অবৈধ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে এই বিশাল ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের নেপথ্যে অন্য কোনো প্রভাবশালী মহলের পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে, স্থানীয় শিশু-কিশোরদের ব্যবহার করে বিভিন্ন বাগান বা ঝোপঝাড় থেকে কাঠ কেটে এনে চুল্লির মালিকদের কাছে বিক্রি করানো হচ্ছে। শিশুশ্রমের পাশাপাশি উঠতি বয়সি এসব শিশুর মধ্যে এভাবে অপরাধপ্রবণতা ও নৈতিক অবক্ষয় বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এলাকাবাসীর তীব্র অভিযোগ, দিনের পর দিন অবৈধ চুল্লি স্থাপন করে পরিবেশের বারোটা বাজালেও সংশ্লিষ্ট পরিবেশ অধিদপ্তর কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি একেবারেই অনুপস্থিত। আইনের তোয়াক্কা না করে চলা এই পরিবেশবিরোধী কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।