রায়পুরায় ইটের বিরোধে চাচা ও চাচাতো ভাইয়ের দায়ের কোপে যুবক নিহত

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় পারিবারিক কলহের জের ধরে চাচা ও চাচাতো ভাইয়ের দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে শাহিন মিয়া (২৫) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর দুইটার দিকে উপজেলার আমীরগঞ্জ ইউনিয়নের খলাপাড়া গ্রামে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত শাহিন মিয়া ওই গ্রামের আওলাদ হোসেনের ছেলে। এ ঘটনায় জড়িত প্রধান অভিযুক্তরা হলেন নিহতের চাচা মোবারক ও তার ১৭ বছর বয়সী ছেলে রাব্বি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ির পাশে রাখা ইট সরিয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে আওলাদ হোসেনের পরিবারের সঙ্গে তার ভাই মোবারক ও ভাতিজা রাব্বির পরিবারের দীর্ঘদিনের বিরোধ চরমে পৌঁছায়। ঘটনার দিন দুপুরে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে চাচা মোবারক ও তার ছেলে রাব্বি অতর্কিতভাবে দেশীয় অস্ত্র (দা) দিয়ে শাহিন মিয়ার ওপর হামলা চালান এবং এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করেন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা শাহিনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

শোকে বিহ্বল নিহতের বাবা আওলাদ হোসেন কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, মাত্র তিন দিন আগে তার ছেলে বাবা হয়েছে। সে কাজের সুবাদে বাইরে ছিল এবং সম্প্রতি ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসে। ঝগড়া থামানোর জন্য সে এগিয়ে গেলে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। তিনি বলেন, 'আমার ছেলের কোনো দোষ ছিল না। সে তো শুধু ঝগড়া থামাতে গিয়েছিল। আমি আমার বুক খালি হওয়ার বিচার চাই।' এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয় এলাকাবাসী অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রায়পুরা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে, তবে তাদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

০%
০%
০%
০%