সৌদি আরবে ভালো বেতনের লোভনীয় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রবাসীর পরিবার থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং বিদেশে নিয়ে তাকে জিম্মি করার অভিযোগে করা মানবপাচার মামলার প্রধান আসামি লাভলু মিয়াকে (৪৯) গ্রেপ্তার করেছে শেরপুর সদর থানা পুলিশ। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের দশকাহনিয়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত লাভলু মিয়া ওই এলাকার জয়তুল্লাহর ছেলে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার পাকুরিয়া ভাটিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলামকে উচ্চ বেতনে সৌদি আরব পাঠানোর প্রস্তাব দেন অভিযুক্ত লাভলু মিয়া। এই সুবাদে সাইফুলের পরিবারের কাছ থেকে নগদ ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে সাইফুলকে সৌদি আরব পাঠানো হলেও সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে কোনো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ চাকরি দেওয়া হয়নি, উল্টো শুরু হয় নানামুখী জটিলতা।
ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে আরও জানা যায়, বিদেশে গিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা সাইফুলকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে লাভলু মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেন তার স্বজনেরা। কিন্তু এতে ক্ষিপ্ত হয়ে লাভলু আরও ১৬ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। নির্ধারিত সেই অর্থ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সাইফুলের ওপর শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। এমনকি তার পরিবারের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে তাকে চক্রের অন্য সহযোগীদের মাধ্যমে জিম্মি করে রাখা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলামের স্ত্রী শাহিনা আক্তার বাদী হয়ে লাভলু মিয়াসহ তিনজনকে আসামি করে শেরপুর আদালতে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর পুলিশ সোমবার রাতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত লাভলু মিয়াকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করতে সক্ষম হয়। এই মামলার সঙ্গে জড়িত অপর দুই আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোকন চন্দ্র ঘোষ গণমাধ্যমকে জানান, মানবপাচার মামলার মূলহোতাকে গ্রেফতারে পুলিশ সফল হয়েছে। চক্রের বাকি পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে জোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এদিকে এ ধরনের মানবপাচারকারী চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।