Advertisement

রংপুরে গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের হত্যাকাণ্ড নিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সুধী সমাবেশ

রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্যের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার লক্ষ্যে রংপুর সার্কিট হাউসে এক জরুরি সুধী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকেলে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলালের আমন্ত্রণে আয়োজিত এই সভায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা, আইনজীবী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সভায় বক্তারা গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডকে অত্যন্ত মর্মান্তিক ও উদ্বেগজনক হিসেবে অভিহিত করেন। তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে কোনো মহল যাতে গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ গোলাম রব্বানী, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ সভায় বক্তব্য রাখেন। সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল বলেন, রংপুরের দীর্ঘদিনের সামাজিক সৌহার্দ্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি এবং অপরাধীর কোনো দল বা ধর্ম নেই। সুষ্ঠু ও আইনি তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বশীল স্থান থেকে ঢালাও মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সভাটিতে মাদক নির্মূল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ আলোচনা করা হয়। সহকারী পুলিশ কমিশনার শাকিল জানান, গত তিন মাসে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ৯২টি মাদক মামলায় ২৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া র‍্যাব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে আরও ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ কমিশনারের বদলি সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ১২ আগস্ট পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এটি একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, যা ওই হত্যাকাণ্ডের পূর্বেই নির্ধারিত ছিল।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট মাছুয়াপাড়ার নিজ বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, কন্যা আগামী চক্রবর্তী ও পুত্র আয়ুশ চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করতে বর্তমানে মামলাটি গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) স্থানান্তরিত হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাকে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

0%
0%
0%
0%